খুনের পর বাড়ি ফিরে পুলিশের কাছে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, তিনি দু’টি ফোন বারবার অন-অফ করছিলেন। ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

লখনউ হত্যাকাণ্ড
শেষ আপডেট: 25 February 2026 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলেকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন লখনউয়ের মনবেন্দ্র সিং। তাই দু'বার ব্যর্থ চেষ্টার পরও নিট পরীক্ষায় (NEET) বসার জন্য জোর দিতেন। তবে ছেলেঅক্ষত প্রতাপ সিংয়ের (Akshat Pratap Singh) তা একদমই ইচ্ছে ছিল না। এনিয়ে প্রায়ই অশান্তি হত বাড়িতে। যার পরিণতি হল মর্মান্তিক। নিজের ছেলের হাতেই খুন হলেন ওই ব্যক্তি (Lucknow man kills father)। বাবাকে মেরে তাঁর দেহ টুকরো করতেও (chopped the body into pieces) হাত কাঁপেনি বছর ২১-এর অভিযুক্তর। এবার পুলিশি তদন্তে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঘটনা ২০ ফেব্রুয়ারি ভোররাতের। অক্ষত ও তাঁর বাবা মনবেন্দ্র সিংয়ের (Manvendra Singh murder case) মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাগের মাথায় অক্ষত পিস্তল তুলে বাবাকে গুলি করেন। ঘটনার পর আতঙ্কিত না হয়ে তিনি ঠান্ডা মাথায় দেহ তিন তলা থেকে টেনে নামিয়ে বাড়ির নীচের ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান (Lucknow man kills father)। সেখানেই একটি কাটার মেশিন ব্যবহার করে দেহ টুকরো করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অক্ষত প্রথমে বাবার দু’টি পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে আলাদা করেন, তারপর দু’টি হাত ও মাথা আলাদা করেন। কিছু টুকরো বাড়ি থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ফেলে আসেন, আর বাকি দেহাংশ নীল ড্রামে ভরে বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন।
নীচের সেই ঘরে দেহ কাটার সময় তাঁর বোন গোটা ঘটনাটি দেখে ফেলে। কিন্তু অভিযুক্ত তাঁকে হুমকি দিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করেছিল।
খুনের পর বাড়ি ফিরে অক্ষত পুলিশের কাছে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, তিনি দু’টি ফোন বারবার অন-অফ করছিলেন। ফোনগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চারদিন পর অক্ষতকে জেরা করেই দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের (son kills father Lucknow) কয়েকদিন আগেই অক্ষত একটি ছুরি কিনেছিলেন, সেটি ব্যবহার করেই বাবার দেহ টুকরো টুকরো করেছিলেন অভিযুক্ত। অনুমান করা হচ্ছে, হঠাৎ করে রাগের মাথায় নয়, দীর্ঘদিন ধরে বাবার উপর জমে থাকার রাগের প্রতিফলন এই হত্যাকাণ্ড। দেহ কাটার সময় গন্ধ ঢাকতে তিনি রুম ফ্রেশনারও ব্যবহার করেন।
কয়েক বছর আগে নিজের বাড়িতেই চুরি করেন অক্ষত। টাকা ও গয়না চুরি করে বান্ধবীর জন্য দামী উপহার কিনেছিলেন। নেশায় আসক্তির কারণেও পরিবারে প্রায়ই অশান্তি হত। এমনকি খুনের আগের দিন বাবার সঙ্গে এক মহিলার ফোনে ঝগড়া নিয়েও প্রতিবেশীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অক্ষতর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেনও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাবা চাইতেন অক্ষত ডাক্তার হোক, কিন্তু সে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল না। এই বিষয়েই বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।
অক্ষতের মা ১০ বছর আগে মারা গিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুও রহস্যজনক, পরিবার এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইছে না। সূত্রের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে পরিবার জানিয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই বদলে গিয়েছিলেন অক্ষত। নিজের মতো থাকতেন, কারও সঙ্গে ঠিক করে কথা বলতেন না। জট দিন গেছে আরও বেশি 'লাগামছাড়া' হয়ে উঠছিলেন অভিযুক্ত যুবক। জানা যাচ্ছে, এবার পুলিশ এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনতে পারেন।