দুর্ঘটনায় ওই ব্যক্তির শরীরের ৬০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছিল। রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। কয়েক দিন ধরে চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।
.jpg.webp)
এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনা
শেষ আপডেট: 25 February 2026 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামীর জীবন বাঁচাতে শুরু হয়েছিল এক মরিয়া লড়াই। যার শেষটা হল মর্মান্তিক। এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা মুহূর্তে অনাথ করে দিল দুই সন্তানকে। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার সাঁও-র চিকিৎসার জন্য পরিবার শেষ সম্বলটুকুও খরচ করে দিয়েছিল (Jharkhand Crash)। কিন্তু সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনায় (Air Ambulance Tragedy) মৃত্যু হয়েছে সঞ্জয় এবং তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবীর।
১৬ ফেব্রুয়ারি সঞ্জয়ের হোটেলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনায় ওই ব্যক্তির শরীরের ৬০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছিল। রাঁচির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। কয়েক দিন ধরে চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ইতিমধ্যেই চিকিৎসায় খরচ হয়ে গিয়েছিল প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা। এরপরই রোগীকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
২২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকেরা জানান, তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। পরিবারের দাবি, ঝাড়খণ্ড সরকারের দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স (Air Ambulance Tragedy) হেল্পলাইন নম্বরে বারবার ফোন করেও কোনও সাহায্য মেলেনি। সময় ফুরিয়ে আসছিল। সঞ্জয়কে দীর্ঘ সড়কপথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
অবশেষে তাঁরা যোগাযোগ করেন এক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। জানানো হয়, রাঁচি থেকে দিল্লি পৌঁছতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স (Air Ambulance Tragedy) ভাড়া ৮ লক্ষ টাকা। এদিকে সঞ্চয় শেষ, চিকিৎসার খরচে ডুবে থাকা পরিবার এত টাকা দেবে কীভাবে? তবু আশা ছাড়েননি সঞ্জয়ের স্ত্রী অর্চনা। নিজের সোনার গয়না বন্ধক রাখেন। তাতেও টাকা কম পড়ে। এরপর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়দের থেকে ৮ লক্ষ টাকা ধার করে এয়ার আম্বুল্যান্স ভাড়া করা হয়েছিল।
সোমবার বিকেলে রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সেই এয়ার আম্বুল্যান্স। মাঝপথেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। বিমানে থাকা ৭ জনেরই মৃত্যু হয়।
এদিকে বাড়িতে অপেক্ষা করছিল দু’টি নাবালক সন্তান। মা–বাবার মৃত্যুসংবাদ শোনার পর তাঁদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। শুধু শোকই নয়, ঋণের বোঝা নিয়েও এখন লড়তে হবে দুই শিশুকে। চিকিৎসা ও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের খরচ তুলতে যে ঋণ ও বন্ধক করতে হয়েছে, তা শোধ করার উপায় নেই পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের তরফে কোনও আর্থিক সাহায্য বা আশ্বাস মেলেনি। তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, অন্তত দুই শিশুর শিক্ষা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব সরকার যেন নেয়।