সঞ্জয় কুমারকে বাঁচাতে পরিবার শেষ সঞ্চয় পর্যন্ত খরচ করেছিল। আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় আট লক্ষ টাকা ধার করে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে।

ঝাড়খণ্ডে বিমান দুর্ঘটনা
শেষ আপডেট: 24 February 2026 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামর্থ্য ছিল না, তবুও এদিক ওদিক হাত পেতে জোগাড় করেছিলেন ৮ লক্ষ টাকা, পুরোটাই ছিল এয়ার আম্বুল্যান্সের ভাড়ার টাকা (8 lakh loan air ambulance)। সেই বিমানে অগ্নিদগ্ধ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ঝাড়খণ্ডের দুর্ঘটনায় (Jharkhand air ambulance crash) মৃত্যু হল পরিবারের।
চাঁদওয়ার ছোট রেস্তরাঁর মালিক সঞ্জয় কুমার (৪১) কয়েকদিন আগে একটি দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁর হোটেলের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। শরীরের ৬৩ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল ওই ব্যক্তির। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য সঞ্জয়ের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যাওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালে আর চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছিল না। তখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
সঞ্জয় কুমারকে বাঁচাতে পরিবার শেষ সঞ্চয় পর্যন্ত খরচ করেছিল। আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় আট লক্ষ টাকা ধার করে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে। প্রয়োজনে জমিজমা বিক্রি করতেও প্রস্তুত ছিলেন, এমনটাই জানান মৃতের ভাই অজয়। সোমবার বিমানে সঞ্জয়ের স্ত্রী (patient wife killed crash) ও এক আত্মীয় ধুরু ছিলেন তাঁর সঙ্গে।
অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ডিজিসিএ (Directorate General of Civil Aviation) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর হঠাৎ যোগাযোগ এবং রাডার সিগন্যাল দু’টিই হারিয়ে যায় (air ambulance accident chatra)। সেই সময় বিমানটি বারাণসীর (Varanasi)-র দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। বিমানের টেল নম্বর ছিল VT-AJV।
মৃতদের (air ambulance crash deaths) পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন, ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সভরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, ড. বিকাশ কুমার গুপ্ত, সচিন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী এবং ধুরু কুমার।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে লাতেহার জেলার চাঁদওয়ায়। সঞ্জয়ের বাড়িতে জড়ো হয়েছেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষজন। তাঁরা বলছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন সঞ্জয় ও তাঁর পরিবার। কিন্তু আকাশপথের সেই শেষ আশাটুকুও শেষ পর্যন্ত আর কাজে এল না।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (AAIB)-এর একটি দল আজ দিল্লিতে ফ্লাইট অপারেটর RedBird Aviation-এর অফিসে যাচ্ছে (AAIB probe)। তারা কোম্পানির সেফটি অডিট রিপোর্ট ও বিমানটির টেকনিক্যাল ডকুমেন্ট পরীক্ষা করবে।
RedBird Aviation-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অক্ষয় কুমার জানিয়েছেন, “বারামতিতে অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার পরই আমাদের বিমানগুলির বিশেষ অডিট হয়েছিল। দুই পাইলটই অভিজ্ঞ ছিলেন। রাঁচি ATC-র সঙ্গে যোগাযোগে খারাপ আবহাওয়ার কথা জানা গিয়েছিল।”
উড়ানের কিছু সময়ের মধ্যেই পাইলট জানান যে খারাপ আবহাওয়ার জন্য রুট বদল করতে হবে (bad weather aviation incident)। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই বিমানটির সঙ্গে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং রাডার থেকেও হারিয়ে যায়। পরে জানা যায়, বিমানটি চাত্রা জেলার সিমরিয়া এলাকার জঙ্গলে ভেঙে পড়েছে।