
আদিত্য শ্রীবাস্তব
শেষ আপডেট: 16 April 2024 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় আছে, একবার না পারিলে দেখো শতবার। শতবারের প্রয়োজন পড়েনি। তিনবারের মাথাতেই লখনউয়ের ২৬ বছরের যুবক দেশের শীর্ষ সরকারি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন। ইউপিএসসি-র সিভিল সার্ভিসেস ২০২৩ সালের পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন আদিত্য শ্রীবাস্তব। প্রথমবার পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসে ২৩৬-তম স্থান পেয়েছিলেন আদিত্য। আমলা হতে না পারলেও ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) নির্বাচিত হন। বর্তমানে হায়দরাবাদে প্রশিক্ষণ চলছে তাঁর।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলাফলে আদিত্যর পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অনিমেষ প্রধান এবং তৃতীয় স্থানে দোনুরু অনন্যা এ রেড্ডি। অনিমেষ এনআইটি রৌরকেল্লার কম্পিউটার সায়েন্সের বি টেক ইঞ্জিনিয়ার। অন্যদিকে, অনন্যা রেড্ডি দিল্লির মিরান্দা হাউসের ভূগোল সাম্মানিক নিয়ে স্নাতক। শীর্ষ ২৫ জনের তালিকায় রয়েছেন ১০ জন মেয়ে এবং ১৫ জন পুরুষ পরীক্ষার্থী। এ বছর মোট ১০১৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন এই পরীক্ষায়।
পরীক্ষায় প্রথম হয়ে আদিত্য জানান, আমার স্বপ্ন হল। আদিত্যর বাবা অজয়কুমার শ্রীবাস্তব সিএজি-তে কর্মরত। তিনি বলেন, হায়দরাবাদ থেকে ফোন করে ও আমাদের খবর দিয়েছে। এ বছর ও ভালো করবে আমাদের সকলের এই আশা ছিল। কিন্তু, কোনওদিনই আশা করিনি যে, ও প্রথম হবে। এ যেন মেঘ না চাইতেই জল। আমাদের পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে ও। আমরা ওর জন্য গর্ব অনুভব করছি।
কানপুর আইআইটি-র স্নাতক আদিত্য এম টেক করার পর বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে বার্ষিক ৪০ লক্ষ টাকা বেতনের কাজে যোগ দেন। দেড় বছর চাকরি করার পর ও সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেবে বলে মনস্থির করে বলে জানান বাবা। তাঁর কথায়, চাকরি করতে করতে প্রথমবার পরীক্ষায় বসলেও প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই পাশ করতে পারেনি। এরপর চাকরি ছেড়ে ২০২২ সালে পুরোপুরি মনোনিবেশ করে পরীক্ষা দেয়। দ্বিতীয়বারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন আদিত্য।
উচ্ছ্বসিত বাবা আরও বলেন, ও সবসময় আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখত। আমরাও ওকে চাকরি ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পাশে থেকেছি। আমরা খুব খুশি যে ওর স্বপ্ন সফল হয়েছে। আদিত্য আলিগঞ্জে সিটি মন্টেসরি স্কুলে পড়তেন। ২০১৪ সালে জেইই পাশ করে আইআইটি কানপুরে ভর্তি হন। তাঁর এই সাফল্যে খুশি আদিত্যর স্কুল কর্তৃপক্ষও।