পুলিশ জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি রামনগর ধেহা লিঙ্ক রোডের দিকে ঘুরছিল, সেই সময়ই পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আর তার পরই ঘটে এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণ।

ঘটনাস্থলের ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 24 August 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোশিয়ারপুর-জলন্ধর রোডের কাছে মাণ্ডিয়ালা আড্ডায় পিকআপ ভ্যান এলপিজি ট্যাঙ্কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল একাধিক মানুষের। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা সাত। গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ট্যাঙ্কারের চালক সুখজিৎ সিং, বালওয়ান্ত রাই, ধর্মেন্দ্র বর্মা, মঞ্জিত সিং, বিজয়, জস্বিন্দর কউর এবং অরাধনা বর্মা। মাত্র ২৮ বছরের ধর্মেন্দ্র গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁকে অমৃতসরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয়।
আহতদের তালিকায় রয়েছেন বালওয়ান্ত সিং (৫৫), হরবংশ লাল (৬০), অমরজিৎ কউর (৫০), সুখজিৎ কউর, জ্যোতি, সুমন, গুরমুখ সিং, হরপ্রীত কউর, কুসুমা, ভগবান দাস, লল্লি বর্মা, সীতা, অজয়, সঞ্জয়, রাঘব এবং পূজা। এঁদের মধ্যে কয়েক জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। তিন ঘণ্টা ধরে রাস্তায় ধরনা দেন মাণ্ডিয়ালা ও আশপাশের গ্রামের মানুষজন। তাঁদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত এসডিএম গুরসিমরনজিৎ কউরের আশ্বাসে বিক্ষোভ উঠে যায়।
এদিকে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন। শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল গুলাব চন্দ কাটারিয়াও।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান মন্ত্রী রভজ্যোৎ সিং, বিধায়ক ব্রহ্ম শঙ্কর জিম্পা, সাংসদ রাজকুমার ছাব্বেওয়াল এবং জেলা শাসক আশিকা জৈন। কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং এবং সাংসদ সুখজিন্দর সিং রান্ধাও দাবি তুলেছেন, প্রত্যেক পরিবারকে অন্তত ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
গ্রামবাসী গুরমুখ সিংয়ের কথায়, 'আমি স্নান করছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। মুহূর্তে চারদিকে আগুন। আমার স্ত্রী, মেয়ে ও পুত্রবধূ পুড়ে গেছে। কোনও রকমে নাতিকে কম্বলে জড়িয়ে বাঁচাতে পেরেছি।'
পুলিশ জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি রামনগর ধেহা লিঙ্ক রোডের দিকে ঘুরছিল, সেই সময়ই পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আর তার পরই ঘটে এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণ।