সরকারের ব্যাখ্যা, যেখানে পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের পিএনজি-তে স্থানান্তরিত করা গেলে সীমিত এলপিজি মজুতকে সেইসব এলাকায় পাঠানো যাবে, যেখানে এখনও পাইপলাইন পৌঁছয়নি। এতে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সহজ হবে।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 25 March 2026 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এলপিজি সঙ্কটের মধ্যেই বাড়ি বাড়ি পিএনজি-র ব্যবহারে জোর দিতে কড়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র (PNG connection rule India)। জানানো হয়েছে, যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস (PNG)-এর ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেখানের লোকজন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িতে পিএনজি সংযোগ না নিলে আর LPG সিলিন্ডার মিলবে না (LPG to PNG switch India)। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে পিএনজি সংযোগ না নিলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে (LPG supply cut off policy)।
এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, দেশের গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের দ্রুত সম্প্রসারণ (India gas pipeline expansion) এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করা। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে এলপিজি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটাও সামাল দিতে চাইছে সরকার।
সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, সাধারণ পরিবার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান - উভয়কেই পিএনজি-তে রূপান্তরের জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের মতে, পিএনজি তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক, কারণ এটি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রান্নাঘরে পৌঁছে যায়। ফলে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ঝক্কি এড়ানো সম্ভব হয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সরকারের ব্যাখ্যা, যেখানে পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের পিএনজি-তে স্থানান্তরিত করা গেলে সীমিত এলপিজি মজুতকে সেইসব এলাকায় পাঠানো যাবে, যেখানে এখনও পাইপলাইন পৌঁছয়নি। এতে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সহজ হবে।
এই প্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ‘ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার, ২০২৬’ জারি করেছে। এই নির্দেশের মাধ্যমে পাইপলাইন অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা, অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, পাইপলাইন থাকা সত্ত্বেও যদি কোনও পরিবার তিন মাসের মধ্যে পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন না করে, তবে তাদের এলপিজি সরবরাহ “বন্ধ করে দেওয়া হবে”।
তবে রয়েছে কিছু ছাড়
তবে এই নিয়মে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যদি কোনও অনুমোদিত সংস্থা জানায় যে প্রযুক্তিগত কারণে কোনও এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পৌঁছনো সম্ভব নয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ চালু থাকবে।
এছাড়া, এই ধরনের ক্ষেত্রে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) থাকলে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ অব্যাহত রাখা যাবে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব
এই নীতির পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোয় সমস্যা এবং হরমুজ প্রণালী-তে চলমান অচলাবস্থার ফলে এলপিজি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে।
এই পরিস্থিতিতে “ফুয়েল ডাইভার্সিফিকেশন” বা বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নির্দেশ এশেনসিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট (Essential Commodities Act)-এর আওতায় জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাইপলাইন প্রকল্পের অনুমোদন দ্রুত করা, খরচের কাঠামো নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এলপিজি-র উপর চাপ কমিয়ে পিএনজি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র - যা ভবিষ্যতের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।