স্বামী দ্বারিকা চৌধুরী, যিনি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঠেলাগাড়ি চালান, প্রথমে অভিযোগ করেন লুটের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে অনিতাকে। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয় তাঁর অটোটি।

অনিতা চৌধুরী
শেষ আপডেট: 10 January 2026 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালবাসা, সন্দেহ আর বিশ্বাসঘাতকতার জটিল সম্পর্ক - এই সূত্রেই শেষ পর্যন্ত কাটল ঝাঁসির প্রথম মহিলা অটোচালক (Jhansi First Woman Auto Driver) অনিতা চৌধুরী (Anita Chaudhary) খুনের রহস্য। শনিবার ভোরে মূল অভিযুক্ত মুকেশ ঝাকে গ্রেফতারের পর গোটা ঘটনার (Jhansi First Woman Auto Driver Murder Case) নেপথ্য কাহিনি প্রকাশ্যে আনল পুলিশ।
৪৫ বছরের অনিতা চৌধুরীর রক্তাক্ত দেহ সোমবার ভোররাতে ঝাঁসির নওয়াবাদ থানার অন্তর্গত স্টেশন রোডে উদ্ধার হয়। রবিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ পরিবারের কাছে ফোন আসে - স্টেশন রোডে আহত অবস্থায় অনিতাকে পাওয়া গেছে।
স্বামী দ্বারিকা চৌধুরী, যিনি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঠেলাগাড়ি চালান, প্রথমে অভিযোগ করেন লুটের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে অনিতাকে। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয় তাঁর অটোটি। গয়না ও মোবাইল ফোনও নিখোঁজ ছিল। ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হয় - ঘাড়ে গুলির আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে অনিতার।
ঝাঁসির প্রথম মহিলা অটোচালক
অনিতা চৌধুরী ঝাঁসির প্রথম মহিলা অটোচালক (Jhansi First Woman Auto Driver) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুন্দেলখণ্ডের মতো সামাজিকভাবে রক্ষণশীল এলাকায়, যেখানে একসময় ডাকাতির আতঙ্ক ছিল নিত্যদিনের, সেখানে পরিবার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি অটো চালানো শুরু করেন। তিনিই ছিলেন পরিবারের মূল উপার্জনকারী।
তদন্তে নতুন মোড়
স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে মুকেশ ঝা, তাঁর শ্যালক মনোজ ঝা এবং ছেলে শিবম ঝা-র বিরুদ্ধে। সোমবার মনোজ ও শিবম গ্রেফতার হলেও মুকেশ পলাতক ছিলেন। তাঁর খোঁজে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে পুলিশ।
ঝাঁসির এসএসপি বিবিজিটিএস মূর্তি জানান, অনিতার সঙ্গে মুকেশের গত ছয়-সাত বছর ধরে যোগাযোগ ছিল এবং সম্প্রতি দু’জনের মধ্যে তীব্র বিবাদ চলছিল।
প্রেম ও প্রতারণার গল্প
তদন্তে জানা যায়, হোটেল ব্যবসায়ী মুকেশ ঝা প্রায় চার বছর ধরে অনিতার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। দু’জনেই বিবাহিত হলেও আলাদা থাকতেন। ২০২০ সালে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয় এবং ছ’মাস আগে বিচ্ছেদ ঘটে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলছেন - এই সন্দেহে প্রকাশ্য স্থানে অনিতার সঙ্গে ঝগড়া করেন মুকেশ। এরপর অনিতা তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। সেই ঘটনার পর বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি হন মুকেশ। হাসপাতালে দেখা করতে গিয়ে মুকেশের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান অনিতা। এরপরই সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেন তিনি।
খুনের রাত
৪ জানুয়ারি রাতে যাত্রী নামিয়ে ফেরার সময় অনিতার অটোকে একটি গাড়ি ধাওয়া করে। রাস্তা আটকে মুকেশ গাড়ি থেকে নেমে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় বলে পুলিশের দাবি।
শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ মুকেশকে ধরতে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করে পুলিশের দিকে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তাঁর ডান পায়ে গুলি লাগে। সেখানেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেরায় মুকেশ স্বীকার করে, ভালবাসায় বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করতে না পেরেই সে অনিতাকে খুন করেছে বলে দাবি পুলিশের। ঝাঁসির এসপি (সিটি) প্রীতি সিংহ জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।