প্রতিবন্ধী কোটা (disabled quota) কাজে লাগিয়ে এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তি হওয়ার আশায় এক যুবক নিজের পা কেটে ফেলেছেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

যুবকের নাম সুরজ ভাস্কর (Suraj Bhaskar), বয়স ২৪ বছর। তিনি খলিলপুরের (Khalilpur) বাসিন্দা।
শেষ আপডেট: 23 January 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) জৌনপুরে (Jaunpur) একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতিবন্ধী কোটা (disabled quota) কাজে লাগিয়ে এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তি হওয়ার আশায় এক যুবক নিজের পা কেটে ফেলেছেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। প্রথমে যুবক ও তাঁর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তাঁকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। কিন্তু পরে তদন্তে স্পষ্ট হয়, বাইরে থেকে কেউ হামলা করেনি—যুবক নিজেই নিজের পা কেটেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবক তাঁর বাঁ পায়ের চারটি আঙুল কেটে ফেলেন, শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলি (thumb) অক্ষত থাকে। এই বিষয়টি তিনি নিজের বান্ধবীকে (girlfriend) জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে লাইন বাজার থানা (Line Bazaar police station) এলাকার মধ্যে। যুবকের নাম সুরজ ভাস্কর (Suraj Bhaskar), বয়স ২৪ বছর। তিনি খলিলপুরের (Khalilpur) বাসিন্দা। পরিবারে রয়েছেন তাঁর মা, এক দাদা এবং এক বোন। দাদা কর্মরত। সুরজ ডি-ফার্মা (D-Pharma) পাশ করেছেন এবং গত তিন বছর ধরে এমবিবিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
১৮ জানুয়ারি রাতে সুরজ তাঁর নির্মীয়মাণ বাড়িতে একা ঘুমোচ্ছিলেন। পরদিন সকালে তাঁর বাঁ পা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের তরফে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রথমে তাঁকে জেলা হাসপাতালে (district hospital) ভর্তি করা হয়, পরে পার্থ হাসপাতালে (Parth Hospital) স্থানান্তর করা হয়।
সুরজ পুলিশের কাছে দাবি করেন, রাতে বাড়িতে ফেরার পর প্রায় রাত ১২টা নাগাদ দু’জন অচেনা ব্যক্তি এসে তাঁর উপর হামলা চালায়। মারধরের ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। ভোর পাঁচটা নাগাদ জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখেন, তাঁর পায়ের আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর তিনি জেলা হাসপাতালে যান।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ১৫ দিন আগেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পালসার বাইকে (Pulsar bike) চড়ে দু’জন এসেছিল। তাঁর বাড়ির সামনে যাদব সম্প্রদায়ের (Yadav settlement) বসতি রয়েছে। তিনি আলো জ্বালালে কিছু লোক আপত্তি করে। সেই কারণেই তাঁকে প্রথমে হুমকি, পরে মারধর এবং শেষে পা কেটে দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে খুনের চেষ্টা (attempted murder) মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিরিঞ্জ (syringe), অ্যানাস্থেসিয়া (anesthesia) ভর্তি শিশি এবং একটি করাত মেশিন (saw machine) উদ্ধার করে। কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), ঘটনাস্থলের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সন্দেহভাজনদের জেরা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়— এই ঘটনায় কোনও বহিরাগত জড়িত নেই। জৌনপুরের সিটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (City Superintendent of Police) গোল্ডি গুপ্তা (Goldy Gupta) বলেন, “ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। CDR বিশ্লেষণ এবং জেরায় প্রমাণ মিলেছে, বাইরে থেকে কেউ হামলা করেনি।”
পুলিশ সুরজের কাছ থেকে একটি ডায়েরিও উদ্ধার করে। সেখানে লেখা ছিল, ২০২৬ সালের মধ্যে যেভাবেই হোক এমবিবিএসে ভর্তি হতে হবে। তদন্তে আরও জানা যায়, এই পরিকল্পনার কথা তিনি তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। অক্টোবরে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে (BHU) কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করতেও গিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এমবিবিএসে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় সুরজ মানসিক চাপ (mental stress) ও অবসাদে (depression) ভুগছিলেন। ডি-ফার্মা পাশ করার কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞান ছিল তাঁর। সেই জ্ঞান ব্যবহার করেই তিনি নিজেই এই ঘটনা ঘটান, যাতে প্রতিবন্ধী কোটায় সুযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সুরজের চিকিৎসা চলছে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এই ঘটনা তরুণদের উপর পড়াশোনার ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের এক ভয়াবহ দিক তুলে ধরেছে। ভুল পথে না গিয়ে সময়মতো সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। পুলিশের মতে, এই ঘটনা সমাজের সামনে এক গভীর সতর্কবার্তা— সাফল্যের চাপে অনেক সময় তরুণরা নিজেদেরই সর্বনাশের পথে ঠেলে দিচ্ছে।