পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের কোনও নথি জমা দেওয়া হয়নি, তাই সেগুলিকে দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে।

দিল্লিতে সংঘর্ষ
শেষ আপডেট: 7 January 2026 10:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় মসজিদের কাছে দিল্লি পুরসভা কর্তৃপক্ষ (Municipal Corporation of Delhi) বুধবার গভীর রাতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় (Delhi Demolition)। মসজিদের চারপাশে বেআইনি দখলদারি সরাতে হাইকোর্টের (Delhi High Court) নির্দেশের পরই এই অভিযান শুরু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়, ছোড়া হয় পাথর, এমনকি দফায় দফায় অশান্তির খবরও মিলেছে।
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট নগর উন্নয়ন মন্ত্রক, এমসিডি ও দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে। বিষয়টি বিচারযোগ্য বলে জানিয়েছে আদালত।
বুলডোজার চালাতেই উত্তেজনা
স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে বুলডোজার ও মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে শতাব্দী- প্রাচীন মসজিদের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে (Delhi Mosque Demolition), পাশে মোতায়েন পুলিশ। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ছে। পাল্টা বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছেন (Delhi Demolition Protest)। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত পাঁচজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ডেপুটি কমিশনার বলেন, “পাথর ছোড়া হয়েছিল। আমরা ন্যূনতম বল প্রয়োগ করেছি। পুরো প্রক্রিয়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। সিসিটিভি ও বডিক্যাম ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্ত করা হবে।”
মামলার পটভূমি কী?
এমসিডির ২২ ডিসেম্বরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ফয়েজ-এ-ইলাহী মসজিদের পরিচালন কমিটি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেছে। ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, ০.১৯৫ একর জমির বাইরে থাকা সমস্ত কাঠামো অবৈধ এবং পরিচালন কমিটির পক্ষ থেকে জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের কোনও নথি জমা দেওয়া হয়নি, তাই সেগুলিকে দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। এই ০.১৯৫ একর জমিতেই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে (Delhi Mosque Demolition)।
দিল্লি পুরসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত হাইকোর্টের ১২ নভেম্বরের অন্য এক নির্দেশের পর, যেখানে রামলীলা গ্রাউন্ড সংলগ্ন ৩৮ হাজার ৯৪০ বর্গফুট দখলদারি সরাতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই দখলদারির মধ্যে ছিল রাস্তা, ফুটপাত, পার্কিং এলাকা এবং একটি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
অক্টোবরে একটি যৌথ জরিপে এসব দখলদারি ধরা পড়ে। এরপর ৪ জানুয়ারি দিল্লি পুরসভার দল চিহ্নিত করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করতে হয়।
ওয়াকফ সম্পত্তি দাবি
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি। ওয়াকফ অ্যাক্ট অনুযায়ী এই ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তির একমাত্র কর্তৃপক্ষ হল ওয়াকফ ট্রাইবুনাল। তারা আরও জানায়, জায়গাটি বহুদিন ধরে তারা ব্যবহার করছে। এমনকি তারা ওয়াকফ বোর্ডকে নিয়মিত লিজ ভাড়া দেয়।
গতকালের ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন হয়েছে পুলিশ বাহিনী।