সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিবাদ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলা হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 January 2026 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক দশক আগের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ফের জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU)। ২০১৬ সালের ‘দেশদ্রোহী স্লোগান’ (Anti National Slogan) বিতর্কের পর, ২০২৬-এর শুরুতেই আবার রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল এই ঐতিহাসিক ক্যাম্পাস।
সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) এক রায় ঘিরে। ৫ জানুয়ারি উমর খালিদ (Umar Khalid) ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই সোমবার রাতে জেএনইউ ক্যাম্পাসে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মূলত ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া হিংসার স্মরণে এই সভা ডাকা হলেও, তা দ্রুতই রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিবাদ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলা হচ্ছে। এই স্লোগানগুলিকে ‘আপত্তিকর, উস্কানিমূলক ও প্ররোচনামূলক’ বলে উল্লেখ করে এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেএনইউর নিরাপত্তা বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধরনের স্লোগান ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সীমারেখা’ অতিক্রম করেছে এবং জেএনইউর কোড অফ কন্ডাক্টের পরিপন্থী। এফআইআর চাওয়ার তালিকায় বর্তমান জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি অদিতি মিশ্রর নামও রয়েছে। যদিও অদিতি মিশ্র দাবি করেছেন, ওই স্লোগানগুলি আদর্শগত ছিল, কোনও ব্যক্তিকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে নয়।
এই ঘটনা ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিজেপির একাধিক নেতা দশ বছর আগের মতোই ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’, ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘আরবান নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে প্রতিবাদী ছাত্রদের আক্রমণ করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়াল্লার বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেস, আরজেডি-সহ বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে ছাত্রদের। তবে ভাষা ও সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন বলেও মত তাঁদের।
২০১৬ সালের মতো এবারও ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। সে সময় আফজল গুরু ইস্যুতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও পরে ভুয়ো প্রমাণিত হলেও, মামলা আজও বিচারাধীন। একইভাবে ২০২৬-এর এই ঘটনাতেও ভিডিওর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
দশ বছরে বদলে গিয়েছে সেই সময়ের বহু পরিচিত মুখের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন। উমর খালিদ এখন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে, বিচার শুরু হয়নি এখনও। কনহাইয়া কুমার জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের মুখ। অন্যদিকে শেহলা রশিদ মোদী সরকারের নীতির প্রশংসায় মুখর। আর এবছর বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নতুন প্রজন্মের ছাত্রনেতা আদিতি মিশ্র।
দশ বছর পর প্রশ্নটা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে - জেএনইউ কি আবারও দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতীক হয়ে উঠছে?