গত শনিবার লালু-কন্যা রোহিনী আচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৪৬ বছরের এই চিকিৎসক অভিযোগ করেন, তেজস্বীর ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদব এবং সহকারী রমিজের হস্তক্ষেপে তিনি বারবার অপমানিত হয়েছেন।

লালু প্রসাদ যাদব
শেষ আপডেট: 17 November 2025 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার (Bihar) জুড়ে আরজেডির (RJD) দুর্বল নির্বাচনী ফল নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহল সরগরম, ঠিক তখনই লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারে (Lalu Prasad Yadav Family) শুরু হয়েছে প্রকাশ্য টানাপোড়েন। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই লালু স্পষ্ট জানালেন - পরিবারের সমস্যা পরিবারই মেটাবে।
সোমবার পাটনায় (Patna) দলের বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে ছোট ছেলে তেজস্বী যাদবকে আরজেডির (RJD) বিধানমণ্ডল দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকে লালু তাঁর পারিবারিক ইস্যু প্রসঙ্গে বলেন, “এটা পুরোপুরি পরিবারের বিষয় (Family Matter)। পরিবারই মিটিয়ে নেব। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
গত শনিবার লালু-কন্যা রোহিনী আচার্য (Rohini Acharya) সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৪৬ বছরের এই চিকিৎসক অভিযোগ করেন, তেজস্বীর ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদব এবং সহকারী রমিজের হস্তক্ষেপে তিনি বারবার অপমানিত হয়েছেন।
বিহার নির্বাচনে আরজেডির হাতেগোনা ২৫টি আসন পাওয়ার পর থেকেই রোহিনীর ক্ষোভ তীব্র হয়। দলের গত দশ বছরের সবচেয়ে খারাপ ফলের দায় তিনি চাপান 'বহিরাগতদের' প্রভাব-এর (Outsiders) ওপর।
রবিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন তাঁর তিন বোন - চন্দা, রাগিনি ও হেমা লালুর বাসভবন ছেড়ে চলে যান। তাঁদের দাবি, পরিবারের ভরসা ভেঙে গেছে, আত্মীয়দের তুলনায় ‘বহিরাগতদের’ প্রতি বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
লালুর বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব (Tej Pratap Yadav), যিনি এ বছর আরজেডি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে নিজের দল জেজেডি (JJD) গড়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাই তেজস্বীর বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। নিজের পরাজয় ও পরিবারের ভাঙনের জন্য তিনি সরাসরি তেজস্বীকেই দায়ী করছেন।
এদিকে বড় মেয়ে মিসা ভারতী পরিস্থিতি প্রশমিত করতে সোমবার বৈঠকের পর বলেন, পরিবারে এমন ঘটনা হয়। আলোচনায় ঠিক হয়ে যাবে। এখন মন দিতে হবে দলের কাজকর্মে। তিনি এনডিএ-র চাকরি প্রতিশ্রুতি, জীবিকা দিদিদের অর্থসাহায্য ও শিল্পোন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের আলোচনা করার অনুরোধ জানান।
নির্বাচনের আগে ‘বিহার অধিকার যাত্রা’-র (Bihar Adhikar Yatra) সময় থেকেই লালুর পরিবারে অশান্তির ইঙ্গিত মিলেছিল। রোহিনী প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তেজস্বীর পাশে গাড়ির সামনের আসনে কেন উপদেষ্টা সঞ্জয় যাদব বসে আছেন। এর পর থেকেই অভিযোগ বাড়তে থাকে - সঞ্জয় ও রমিজ নেমত খান নাকি পরিবার ও দলে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন।
নির্বাচনের ফল বেরোতেই রোহিনী জরুরি পোস্টে জানান, তাঁকে গালিগালাজ করা হয়েছে, অপমান করা হয়েছে, এমনকী জুতো তোলা হয়েছিল মারার জন্য। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বও পারিবারিক অশান্তিকে হাতিয়ার করেছে। দাবি, লালুর পরিবারের এই পরিস্থিতি তাঁর 'পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব'-এর প্রমাণ। যে রোহিনী যাঁর কিডনি দান করেছিলেন, তিনি-ই আজ অপমানিত।