Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকান 'বাবা'কে ঘিরে উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, পুলিশি হস্তক্ষেপে মীমাংসা

শহর জুড়ে ফ্ল্যাগ মার্চ, সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন, প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি - বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ লাগোয়া কৌরিয়া সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়।

মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকান 'বাবা'কে ঘিরে উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, পুলিশি হস্তক্ষেপে মীমাংসা

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 3 February 2026 23:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের ছোট শহর কোটদ্বারে একটি পোশাকের দোকানের নাম ঘিরে স্থানীয় স্তরে আপত্তি শুরু হয়েছিল (Kotdwar shop name controversy)। এবং গত কয়েক সপ্তাহে তা ভয়াবহ রূপ নেয়, শহরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে পুলিশ (uttarakhand communal fight)।

রাস্তায় বিক্ষোভ, পাল্টা অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র মেরুকরণ - পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে পুলিশকে ফ্ল্যাগ মার্চ, বাড়তি মোতায়েন ও প্রবেশপথে কড়া নজরদারির মতো পদক্ষেপ (police mediation) নিতে হয়। একাধিক দফা মধ্যস্থতার পর এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু কীভাবে একটি দোকানের নাম এত বড় বিতর্কে পরিণত হল?

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন মহম্মদ শোয়েব নামে এক দোকানমালিক। কোটদ্বারের পটেল মার্গে তাঁর দোকানের নাম ‘বাবা’। স্থানীয় বজরং দলের কর্মীরা তা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁদের দাবি, ‘বাবা’ শব্দটি শহরের সিদ্ধবলী হনুমান মন্দিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, মুসলিম দোকানির এই নাম ব্যবহার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দোকানের নাম বদলের দাবি ওঠে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, শোয়েব নাকি তখন আশ্বাস দিয়েছিলেন, নতুন জায়গায় দোকান সরালে নাম পরিবর্তন বিবেচনা করবেন। এতে সাময়িকভাবে উত্তেজনা থামে। জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি দোকানটি প্রায় ৩০–৪০ মিটার দূরে সরান। কিন্তু নাম থাকে আগের মতোই, ‘বাবা’। নতুন করে আপত্তি, বিক্ষোভ, এবং উত্তেজনা শুরু হয়।

২৮ জানুয়ারির সংঘর্ষ ও ‘মহম্মদ দীপক’-এর ভূমিকা

২৮ জানুয়ারি প্রথম বড় সংঘর্ষ হয় দোকানের সামনে। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন দীপক কুমার নামে এক জিম-মালিক, যিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড় তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি হিন্দিতে বলেন, “মেরা নাম মহম্মদ দীপক।”

এই এক বাক্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। পরে এক টিভি সাক্ষাৎকারে দীপক বলেন, তিনি হিন্দু এবং নিজের ধর্ম নিয়ে গর্বিত, কিন্তু তার আগে তিনি ভারতীয়,  “আমরা যদি একে অপরকে শত্রু ভাবি, দেশ এগোবে কীভাবে?” একথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

উত্তেজনা ও দ্বিতীয় দফা বিক্ষোভ

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। ৩১ জানুয়ারি শহরের বাইরে থেকেও কিছু মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। দীপকের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত পোস্টের অভিযোগ তোলা হয়। স্লোগান, উত্তেজনা - পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা এসে মধ্যস্থতায় নামেন।

পুলিশের পদক্ষেপ

পরপর বিক্ষোভের পর কোটদ্বার পুলিশ তিনটি এফআইআর দায়ের করে। ৩০–৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অভিযোগে মামলা, বিক্ষোভে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ২৮ জানুয়ারির ঘটনার প্রেক্ষিতে দীপক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ আনা হয়।

শহর জুড়ে ফ্ল্যাগ মার্চ, সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন, প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি - বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ লাগোয়া কৌরিয়া সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়।

দোকানের নাম এখনও অপরিবর্তিত

দীর্ঘ মধ্যস্থতার পর পুলিশ জানায়, শোয়েবের দোকান ‘বাবা’ নামেই চলবে। ভবিষ্যতে কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি আইন হাতে তুলে নিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ সুপার চন্দ্রমোহন সিং জানান, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, প্রশাসনের অগ্রাধিকার শান্তি বজায় রাখা।

তবে এই ঘটনার ব্যক্তিগত প্রভাবও পড়েছে। দীপক জানান, তাঁর জিম কয়েক দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে, মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া চলতে থাকায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। নিজের কষ্টের চেয়ে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েই বেশি উদ্বেগ তাঁর।


```