বুধবার সকালে কিং কোবরাটিকে নিষ্প্রাণ অবস্থায় এনক্লোসারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাপটির শরীরে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 10:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পে বড় ধাক্কা। রাজ্যে কিং কোবরা ফিরিয়ে আনার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা অধরা থেকে গেল প্রথম ধাপে। কর্নাটক থেকে আনা পাঁচ বছরের এক পুরুষ কিং কোবরার মৃত্যু হল ভোপালের ভ্যান বিহার ন্যাশনাল পার্কে।
বুধবার সকালে কিং কোবরাটিকে নিষ্প্রাণ অবস্থায় এনক্লোসারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাপটির শরীরে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সেটিকে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
ভোপালের তীব্র গরম থেকে রক্ষা করতে কিং কোবরার জন্য এনক্লোজারে লাগানো হয়েছিল হিউমিডিফায়ার-সহ নানা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও, মৃত্যুর কারণ বোঝা যাচ্ছে না। এক আধিকারিক বলেন, 'গরমের তীব্রতা কমার পরও সাপটির মৃত্যু হল। কেবল ময়নাতদন্তেই সত্য প্রকাশ হবে।'
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন ও পরিবেশ সংক্রান্ত এক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী যাদব বলেছিলেন, 'মধ্যপ্রদেশ থেকে কিং কোবরা হারিয়ে গিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম রাজ্যে আবার তাকে ফিরিয়ে আনতে।'
তিনি আরও বলেন, 'যেভাবে জঙ্গলে বাঘ চলাফেরা করলে অন্য প্রাণীরা সতর্ক হয়ে যায়, ঠিক তেমনই কিং কোবরা চললে অন্যান্য সাপ গর্ত ছেড়ে পালায়। কিং কোবরা না থাকায় ডিনডোরি জেলার মতো জায়গায় বছরে প্রায় ২০০টি সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।'
এই প্রেক্ষিতেই এপ্রিল মাসে কর্নাটকের পিলিকুলা বায়োলজিক্যাল পার্ক থেকে আনা হয়েছিল দুটি কিং কোবরা। বিনিময়ে মধ্যপ্রদেশ থেকে পাঠানো হয়েছিল দু'টি বাঘ। তখনই পরিকল্পনা নেওয়া হয়, ভ্যান বিহারে কিং কোবরার প্রজনন ও সংরক্ষণ শুরু হবে।
মে মাসে সাপগুলির মধ্যে একটি পুরুষ কোবরাকে পাঠানো হয় ইন্দোর চিড়িয়াখানায়, প্রজনন প্রকল্পে। সেই অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন ভোপালের ভ্যান বিহারে আর কোনও কিং কোবরা নেই, একটি মাত্র বেঁচে রয়েছে ইন্দোরে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ঘটনা শুধু মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পে ধাক্কা নয়, একইসঙ্গে রাজ্যের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ উদ্যোগের উপরও বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।