সাসুন হাসপাতালের প্রাক্তন মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট অজয় তাওয়ারেকে। গত কয়েকমাস ধরেই জেলবন্দি তিনি। এবার আরও বিপদ বাড়ল তাঁর। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট চক্রে (Kidney Transplant Racket) জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তিনি।

ধৃত চিকিৎসক
শেষ আপডেট: 29 May 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের পুনে পোর্শেকাণ্ডে (Pune Porsche Case) গ্রেফতার করা হয়েছিল সাসুন হাসপাতালের প্রাক্তন মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট অজয় তাওয়ারেকে। গত কয়েকমাস ধরেই জেলবন্দি তিনি। এবার আরও বিপদ বাড়ল তাঁর। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট চক্রে (Kidney Transplant Racket) জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে রুবি হল ক্লিনিকের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট চক্র (Kidney Transplant Racket) মামলার তদন্তে নেমে অজয় তাওয়ারেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম) নিখিল পিনাগলে জানান, 'চিকিৎসক অজয় তাওরেকে হেফাজতে নিয়েছি। শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে।'
২০২২ সালে পুনের রুবি হল ক্লিনিকে কর্মরত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। ওই বছরই মার্চ মাসে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সংক্রান্ত গুরুতর একটি অভিযোগ সামনে আসে। পুলিশ জানায়, ২০২২-এর মার্চে কোলাপুরের এক মহিলা নিজেকে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন এমন একজন রোগীর স্ত্রীর মিথ্যে পরিচয় দিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক তরুণীকে নিজের কিডনি দেন। অন্যদিকে, সেই তরুণীর মা ওই ব্যক্তিকে কিডনি দেন।
সাধারণত, রক্তের গ্রুপের অমিলের কারণে যখন রোগীরা তাদের নিজের আত্মীয়দের কাছ থেকে কিডনি পেতে পারেন না, তখন দুজন রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়দের সাথে এই ধরনের অদলবদল করা হয়। এর চারদিন পর টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে আসল পরিচয় প্রকাশ করেন কোলাপুরের মহিলা। এরপরই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে ম্যানেজিং ট্রাস্টি এবং কর্মী-সহ ১৫ জনের নাম। তঁদের মধ্যেই একজন চিকিৎসক অজয় তাওয়ারে।
গত বছর ১৯ মে পুনের রাস্তায় পোর্শে গাড়ির ধাক্কায় দুই বাইকআরোহীর মৃত্যু হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল ১৭ বছরের এক কিশোর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল। এই ঘটনার জল গড়িয়েছিল অনেকদূর। প্রথমে অভিযুক্তর পরিবারের গাড়ির চালক দাবি করেন, ঘটনার সময় চালকের আসনে তিনি ছিলেন। এরপরই কিশোরের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া হলে তার মা চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের ঘুষ দিয়ে নমুনা পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশি তদন্ত এগোলে একে একে আসল সত্যি সামনে আসে। ঘটনার দায় চালককে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য ঠাকুরদা এবং রক্তের নমুনা পাল্টাতে ঘুষ দেওয়ার জন্য কিশোরের বাবা-মাকেও গ্রেফতার করা হয়। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাসুন হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রধান চিকিৎসক অজয় তাওয়ারেকে এবং চিফ মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসক শ্রীহরি হালনরকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই কিডনি-কেলেঙ্কারিতে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক তপন কুমার জানা। তাঁর কলকাতা, বর্ধমান ও কর্নাটকের বেলগাভির ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ৪৪.৬০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা (CBI)। অভিযোগ, শুধু ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামোগত রিপোর্ট তৈরিই নয়, অভিযুক্ত চিকিৎসক অপারেশন টেবিলে (Operation Table) রোগীদের কিডনিও পাচার করতেন (Kidney Smuggling)।