গত ন'মাস ধরে জেলবন্দি ছিলেন অভিযুক্ত। এত দিন পরও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন না হওয়ায় অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট (ছবি-গুগল)
শেষ আপডেট: 29 May 2025 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণের মামলায় ২৩ বছরের অভিযুক্ত ইনফ্লুয়েন্সারকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court gives interim bail to 23-year-old influencer)। চল্লিশ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল যুবকের বিরুদ্ধে। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, 'তালি কখনও এক হাতে বাজে না, নির্যাতিতা তো শিশু নন'।
জানা গিয়েছে, গত ন'মাস ধরে জেলবন্দি ছিলেন অভিযুক্ত। এত দিন পরও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন না হওয়ায় অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারী মহিলা স্বেচ্ছায় ওই যুবকের সঙ্গে জম্মুতে ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং একসঙ্গে থেকেছেন। তাহলে কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হল? কোন ধারায় মামলা হয়েছে? আদালত আরও বলে, 'তালি এক হাতে বাজে না! অভিযোগকারী শিশু নন। তাঁর বয়স ৪০ বছর। তিনি এর আগেও একাধিকবার ঘুরতে গিয়েছেন। অথচ তাঁর পরিবার এবিষয়ে কিছুই জানে না।'
ইনফ্লুয়েন্সার যুবকের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশের ভূমিকাও। বিচারপতি বলেন, '৯ মাস পরও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন না হওয়ায় তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া উচিত।' শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন যুবক। জামিনে মুক্ত থাকাকালীন অভিযোগকারীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না তিনি।
প্রসঙ্গত, নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ২০২১ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) দুজনের আলাপ হয়েছিল। নিজের দোকানের জন্য সাহায্যের বিনিময়ে আইফোন চেয়েছিলেন ইনফ্লুয়েন্সার। জম্মুতে গিয়ে একটি আইফোন কিনেও দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ফোনটি অন্য কাউকে বেচার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। এরপরই তাঁদের সম্পর্কে তিক্ততা আসে। যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে কথা বলে সমস্যা মিটিয়ে নেনে তাঁরা। দোকানের জন্য শুট করতে রাজি হন যুবক। দিল্লিতে এক জায়গায় দেখাও করেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে মাদক মেশানো খাবার খাইয়ে ধর্ষণ করেন এবং আপত্তিকর ছবিও তোলেন। পরে ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে জম্মুতে নিয়ে গিয়ে সেখানেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ।
মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জামিনের আর্জিতে প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল ধৃত। আবেদন খারিজ হলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন তিনি। বুধবার তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয় শীর্ষ আদালত।