ওইদিন দুপুর ১২টার সময় বিজয়ের সভায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও তিনি পৌঁছন সন্ধে ৭টার দিকে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, 'বিজয় আসার সময় পর্যন্ত ভিড় ক্রমশ বাড়ছিল। তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই আরও এক দফা জনসমুদ্র জমে যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 October 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বিজয়ের (Vijay's Rally) করুরের জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ৬০ জন। এনিয়ে বিজেপি নেত্রীর দাবি, এটি 'পরিকল্পিত ঘটনা' এবং ইচ্ছে করে ঘটানো হয়েছে। তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (Tamil Nadu Chief Minister MK Stalin) এবং তাঁর দল ডিএমকে-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'তারা বিজয়কে সভা করার উপযুক্ত জায়গা দেননি।'
বিজেপি নেত্রী (BJP) খুশবু সুন্দরর বলেন, 'তামিলনাড়ুর মানুষ বিশ্বাস করেন যে এটি সম্পূর্ণ অবহেলার পরিণাম। মনে হচ্ছে এটি একটি সাজানো বিপর্যয়, কারণ ডিএমকে জানত বিজয়ের সভায় কত বড় ভিড় হবে, তবুও তাঁকে উপযুক্ত জায়গা দেওয়া হয়নি। এখন এম কে স্ট্যালিন চুপ রয়েছেন, কোনও প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না। ৪১ জন মারা গেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নিয়ে কথা বলা উচিত।'
ঘটনাটি ঘটেছিল ২৭ সেপ্টেম্বর করুরে বিজয়ের নির্বাচনী জনসভায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, ফলে অসহ্যকর গরম, অতিরিক্ত ভিড় এবং খুব সংকীর্ণ জায়গার কারণে মারাত্মক ঘটনা ঘটে। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় বহু মানুষের।
এদিকে ওইদিন দুপুর ১২টার সময় বিজয়ের সভায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও তিনি পৌঁছন সন্ধে ৭টার দিকে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, 'বিজয় আসার সময় পর্যন্ত ভিড় ক্রমশ বাড়ছিল। তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই আরও এক দফা জনসমুদ্র জমে যায়। অনেকেই গাছে, ছাদে, এমনকি বৈদ্যুতিক খুঁটিতেও উঠে পড়েছিলেন, ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়।'
তিনি আরও জানান, 'বিজয় পৌঁছতেই মানুষ তাঁকে দেখার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। এমনকি কেউ কেউ তাঁর গাড়ির দিকে জুতো ছুঁড়ে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যেই অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।'
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল। কিন্তু খুশবু প্রশ্ন তোলেন, 'পুলিশ কেন লাঠিচার্জ করল? এখন অনেক ভিডিও বেরিয়েছে। এটি পরিকল্পিত ও সাজানো ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।'
বিরোধী দলগুলির কেউ কেউ বিজয়কে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। এর উত্তরে আরেক বিজেপি নেত্রী তামিলিসাই সৌন্দররাজন বলেন, 'আমি জানি না কে ‘এ-টিম’, কে ‘বি-টিম’। হয়তো ‘এ টু জেড টিম’ও থাকতে পারে। আমি কিছু বলতে পারব না। তবে আমরা ‘পি-টিম’, মানে জনগণের দল।'
সূত্রের খবর, করুরের ঘটনার কয়েক দিন পর বিজেপি বিজয়ের দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিজেপি আগামী ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের বিপুল জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছে।
এক সিনিয়র বিজেপি নেতা তামিলগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে)-এর নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, 'যদি ডিএমকে অন্যায়ভাবে বিজয়কে লক্ষ্য করে, তবে তিনি একা থাকবেন না।' বিজেপির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, তারা ডিএমকেকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে চায়, তবে বিজয়কে আপাতত ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।