
শেষ আপডেট: 3 December 2023 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল বেরনোর পর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। সংসদ অধিবেশনের ফাঁকেই বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের ২৬ দলকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রের খবর।
সেপ্টেম্বরের শেষে মুম্বইয়ে হয়েছিল জোটের শেষ বৈঠক। তারপর থেকে কংগ্রেস নেতারা পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নীতীশ কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা জোটের বৈঠক ডাকার কথা বললেও সাড়া মেলেনি হাত শিবির থেকে।
পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সমতলের চার রাজ্যের বিধানসভার ফল রবিবার প্রকাশিত হচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২’টা পর্যন্ত যা ট্রেন্ড তাতে মধ্য ভারতের হিন্দি বলয়ের তিন গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগড়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এরমধ্যে রাজস্থান ও ছত্তীসগড়ে কংগ্রেস ক্ষমতায়। ফলে লোকসভা ভোটের আগে দু’দুটি রাজ্যে ক্ষমতা হাতছাড়া হচ্ছে তাদের। হাত শিবিরের একমাত্র সুখবর তেলেঙ্গানায়। কর্নাটকের পর দক্ষিণের এই রাজ্যেই ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস। অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা হওয়ার পর এই প্রথম সেখানে ভারত রাষ্ট্র সমিতির জায়গায় দ্বিতীয় কোনও দল সরকার গড়তে চলেছে।
কংগ্রেস নেতারা ভোটের জন্য ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক পিছিয়ে দিয়েছিলেন এই অঙ্কে যে পাঁচ রাজ্যে ভোটে দল ভাল ফল করলে লোকসভা নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগ বাটোয়ারাতে তারা এগিয়ে থাকবে। ভোটের ফল উল্টো পরিস্থিতি তৈরি করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহালমহল। ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা দলীয় নেতাদের অনেকেরই।
পাঁচ রাজ্যের ভোটের মধ্যেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার প্রশ্ন তুলেছিলেন নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে নিয়েও কংগ্রেস নেতারা কেন গুটিয়ে গেলেন। নীতীশের বক্তব্য ছিল, বিধানসভা ভোট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছে দিল্লির মোদী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। সেটাই জোটের আসল লক্ষ্য। কংগ্রেস বিধানসভা ভোটের জন্য লোকসভার লড়াইকে পিছিয়ে দিতে পারে না।
নীতীশের ওই বক্তব্যের জবাবে কংগ্রেস নেতৃত্ব নীরব থেকেছে। তবে বুধবারের বৈঠকে হাত শিবির তাদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের কী জবাব দেবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। একটি সূ্ত্রের খবর, কংগ্রেস যে বিজেপিকে পরাস্ত করতে যারপরনাই চেষ্টা করেছে সেই চিত্র তুলে ধরবেন খাড়্গে। রাহুল, প্রিয়ঙ্কা-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় ও তেলেঙ্গানায় মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সমান সংখ্যক সভা করেছেন রাহুল। এমনকী অসুস্থ সনিয়া গান্ধী শ্বাসকষ্ট নিয়েও রাজস্থানে প্রচার চালিয়েছেন।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট শনিবার অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে নির্বাচনী রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন তা নজিরবিহীন। কংগ্রেসের বক্তব্য, হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণে বিজেপি চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়েছে। ফল প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশনকেও কাঠগড়ায় তুলেছে হাত শিবির। মনে করা হচ্ছে, বুধবারের বৈঠকে কংগ্রেস এই সব বিষয়ই শরিকদের সামনে তুলে ধরে মুখ রক্ষার চেষ্টা করবে। এখন বড় প্রশ্ন শরিক দলগুলি কংগ্রেসের ব্যাখ্যাকে কতটা গ্রহণ করে এবং ইন্ডিয়া জোট নিয়ে তাদের আগ্রহ কতটা বজায় থাকে।