ঘটনার পর উদ্বেগ বেড়েছে কেরল সরকারের মধ্যেও। রবিবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।

শেষ আপডেট: 5 April 2026 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের কোডাগু জেলার জঙ্গলে ট্রেকিং করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ কেরলের তরুণী। চার দিন কেটে গেলেও এখনও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি (Kerala woman missing Kodagu trek)। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন, ড্রোনও নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ (Tadiandamol trek search operation)।
নিখোঁজ ৩৬ বছর বয়সি ওই তরুণীর নাম জিএস শরণ্যা। পেশায় আইটি কর্মী। তিনি একাই বেড়াতে বেরিয়েছিলেন এবং কাক্কাবে গ্রামের একটি ব্যক্তিগত হোমস্টেতে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছে সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থা।
ঘটনাটি ঘটেছে কোডাগুর তাদিয়ান্ডামোল পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের সময়। এই পাহাড়টি ওই অঞ্চলের জনপ্রিয় ট্রেকিং স্পটগুলির মধ্যে অন্যতম।
কেরল মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি
ঘটনার পর উদ্বেগ বেড়েছে কেরল সরকারের মধ্যেও। রবিবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে শরণ্যা নিখোঁজ রয়েছেন এবং এই ঘটনায় কেরল সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিজয়ন চিঠিতে লিখেছেন, “ওঁকে খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টিতে আপনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানকারী দলের সংখ্যা ও শক্তি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে যত দ্রুত সম্ভব শরন্যাকে খুঁজে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।
তল্লাশিতে ড্রোন, বাড়ানো হয়েছে বাহিনী
এদিকে কর্নাটকের বনমন্ত্রী ঈশ্বর খান্দ্রে জানিয়েছেন, নিখোঁজ তরুণীর খোঁজে অতিরিক্ত বাহিনী নামানো হয়েছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অনুসন্ধান অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রেকিংয়ের আগে সতর্কবার্তা উপেক্ষা?
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শরণ্যা প্রথমে একাই তাদিয়ান্ডামোল পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের অনুমতি চেয়েছিলেন স্থানীয় বন দফতরের কাছে। কিন্তু ওই অঞ্চলে বুনো হাতির উপদ্রব থাকায় বনকর্মীরা তাঁকে একা যেতে নিষেধ করেন এবং অন্য ট্রেকারদের সঙ্গে যেতে বলেন।
শেষ পর্যন্ত তিনি একটি দলের সঙ্গেই ট্রেকিংয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যায় যখন সেই দলটি পাহাড় থেকে নেমে আসে, তখন দেখা যায় শরণ্যা নিখোঁজ।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল এবং বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি - সব মিলিয়ে অনুসন্ধান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। চার দিন কেটে গেলেও কোনও হদিস না মেলায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন ও পরিবারের।