কর্নাটকের জঙ্গলে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার হওয়া কেরলের তরুণীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। ঘটনাটি ‘সাজানো’ কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ, অভিযোগ বিজেপির।

শারণ্যা ও উদ্ধারকারী দলের সদস্য
শেষ আপডেট: 8 April 2026 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দিন জঙ্গলে নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার—এখন উল্টে তদন্তের মুখে কেরলের আইটি পেশাদার জিএস শরণ্যা (Sharanya GS disappearance)। অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ‘সাজানো’ হতে পারে। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
৩৬ বছরের শরণ্যা, কোঝিকোড়ের (Kozhikode) নাদাপুরমের বাসিন্দা। গত ২ এপ্রিল কর্নাটকের কোডাগু (Kodagu disappearence Case) জেলার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ থাডিয়ানডামোলে ট্রেকিংয়ে যান। ১২ জনের একটি দলের সঙ্গে উঠেছিলেন। কিন্তু নামার সময় দলছুট হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। নিজের দলকে খুঁজতে গিয়ে আরও গভীর জঙ্গলে (Dense Forest) ঢুকে পড়েন ক্রমে। টানা চার দিন সেখানে কাটান, শুধুমাত্র জল খেয়ে। ছিল না টাওয়ার, খাবার, যোগাযোগের ন্যূনতম মাধ্যমও।
এই ঘটনার পরই কোডাগুর বিজেপি নেতৃত্ব সন্দেহ প্রকাশ করে। দলের গ্রামীণ শাখা নাপোকলু থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারি সম্পদ অপচয়ের অভিযোগ তুলে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।
পুলিশ এখনও এফআইআর দায়ের করেনি। তবে পিটিশন হিসেবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে থাকা এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রথমে তাঁর কথায় সন্দেহ হয়নি। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, তাই সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে শরণ্যা নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় জানিয়েছেন, সকাল ৮টা নাগাদ ট্রেক শুরু করে ১০টা ৪০ মিনিটে শিখরে পৌঁছন। নামার সময় দুই সঙ্গীর থেকে এগিয়ে যাওয়ায় দলছুট হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের খুঁজতে গিয়ে আর কাউকে পাননি। ফোনে শেষবার এক হোমস্টে মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানান তিনি পথ হারিয়েছেন। এরপর ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
খাবার না থাকলেও একটি ৫০০ মিলিলিটার জলের বোতল ছিল তাঁর কাছে, যা কাছের ঝরনা থেকে ভরে নিতেন। প্রতিদিন প্রায় তিন লিটার জল খেয়েই বেঁচে ছিলেন বলে দাবি তাঁর। ৫ এপ্রিল স্থানীয়দের একটি দল জঙ্গলের এমন একটি জায়গায় তাঁকে খুঁজে পায়, যেখানে সাধারণত কেউ যায় না।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে (GS Sharanya Missing Case Investigation) সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, চার দিন খাবার ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকা কতটা সম্ভব। সব মিলিয়ে, রহস্য ঘনীভূত—আর সেই কারণেই তদন্তে নামছে পুলিশ।