চিকিৎসার জন্য সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের পাশাপাশি রিফ্যাম্পিন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়ে থাকে। এই রোগের এখনও কোনও নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা নেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 September 2025 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে (Kerala) অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস (Amoebic Meningoencephalitis)-এর আরও একটি নতুন কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। এটি একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক মস্তিষ্কের সংক্রমণ। তিরুঅনন্তপুরমের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই রোগ নিশ্চিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য দফতর আক্কুলাম ট্যুরিস্ট ভিলেজের সুইমিং পুলটি বন্ধ করে দিয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য সেখানকার জলের নমুনা সংগ্রহ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ওই কিশোর আগের দিন তার বন্ধুদের সঙ্গে সেই পুলে গিয়েছিল এবং সেখানে স্নান করেছিল।
স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত 'ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম' (Integrated Disease Surveillance Programme)-এর আপডেট করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেরলে অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিসের ৬৭টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ (Kerala HM Veena George) এই রোগ প্রতিরোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি জনসাধারণকে জল সুরক্ষা এবং স্যানিটেশন সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমাদের অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিসের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা বদ্ধ বা দূষিত জলে মুখ ধোব না বা স্নান করব না, এর মধ্যে সেই জলাশয়ও অন্তর্ভুক্ত যেখানে গবাদি পশুদের স্নান করানো হয়।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, বাড়ির কুয়োগুলি বৈজ্ঞানিকভাবে ক্লোরিনেট করা উচিত এবং ওয়াটার থিম পার্কের সুইমিং পুলগুলিও সঠিকভাবে ক্লোরিনেট করতে হবে এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণের নথি সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, "বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার রাখা উচিত। এই অ্যামিবা আপনার নাকের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, তাই নিশ্চিত করুন যে জল আপনার নাকে প্রবেশ না করে।"
গত সপ্তাহে, রাজ্যটিতে এই রোগে এক মাসের মধ্যে পঞ্চম মৃত্যুর খবর আসে। সর্বশেষ আক্রান্ত মালাপ্পুরম জেলার ভান্দুরের বাসিন্দা শোভনা, যিনি ৫৬ বছর বয়সী এক মহিলা। তিনি কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এছাড়াও, সুলতান বাথেরির বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী আরেক রোগী রথীশও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
নাইগ্লেরিয়া ফোলেরি একটি এককোষী জীব, যা সাধারণভাবে 'ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা' নামে পরিচিত। কারণ, এটি একবার মানবদেহে প্রবেশ করলে মস্তিষ্কের টিস্যু নষ্ট করতে শুরু করে। সাধারণত নাক দিয়ে দূষিত জল শরীরে ঢুকলে সংক্রমণ হয়। তারপর ওই জীবাণু সোজা মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়ে ক্ষতি করে।
লক্ষণ সাধারণত ১ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। শুরুতে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বা বমিভাবের মতো উপসর্গ হয়। ধীরে ধীরে গলা শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন এমনকি কোমাতেও পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষ করে গরমকালে, যখন জল উষ্ণ এবং স্তর নীচে নেমে যায়, তখন নদী বা হ্রদের জলে সাঁতার কাটতে গিয়ে এই সংক্রমণ হতে পারে।
এই সংক্রমণ এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়ায় না। এমনকী দূষিত জল খেয়ে ফেললেও সংক্রমণ হয় না। কেবল নাক দিয়ে জল ঢুকলেই ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসার জন্য সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের পাশাপাশি রিফ্যাম্পিন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়ে থাকে। এই রোগের এখনও কোনও নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা নেই।