আপের দাবি ঘিরে বিতর্ক, বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিকিউজাল চাইলেন কেজরিওয়াল। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতিকে সরাবেন কি প্রধান বিচারপতি, নজর গোটা দেশের।

কেজরিওয়াল- দিল্লি হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 6 April 2026 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে এক বিরল নজির গড়তে চলেছেন। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার এজলাসে হাজির হয়ে কেজরিওয়াল আর্জি জানাবেন অনুগ্রহ করে আমাদের মামলা থেকে আপনি সরে দাঁড়ান। আপনার কাছে আমরা ন্যায় বিচার পাব বলে মনে করছি না।
বিচার মহলের ভাষায় এই ধরনের আর্জিকে বলা হয় রেক্যূসাল প্লি। অর্থাৎ মামলাকারী নিজেই বিচারপতির মুখোমুখি হয়ে তার অপসারণ দাবি করবেন।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শর্মার অপসারণ চেয়ে কেজরিওয়াল এর আগে প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি কেজরিওয়ালের ওই আর্জি শুনতে চাননি। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য একজন বিচারপতির অপসারণ চেয়ে হাইকোর্টের রেজিস্টারের অফিসে আবেদন করা যায় না। প্রধান বিচারপতি এই যুক্তিতে কেজরিওয়ালের আবেদন মঞ্জুর করেননি।
আম আদমি পার্টির বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে 'রেক্যূসাল প্লি' তাদের কাছে একমাত্র বিকল্প। আপের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক শাসক দলের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে বিজেপি। দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র প্রবীণ শংকর কাপুরের বক্তব্য, 'দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর আপের কোন আস্থা নেই। তাই বিচারপতির অপসারণ চাইছে দলটি।' তাঁর কথায়, মদ কেলেঙ্কারি নিয়ে আম আদমি পার্টি এতটাই অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছে যে তারা এখন বিচারপতির বদল চলছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রয়েছে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র সিংহের রায়। ৬০১ পাতা রায়ে তিনি দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিসোদিয়া সহ আপ নেতা ও সরকারি কর্তা মিলিয়ে মোট ২২ জনকে জামিন দেন। তাদের বিরুদ্ধে মদ কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার উপযুক্ত প্রমাণ নেই বলে রায় উল্লেখ করেন বিচারক। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন আজ বিচারপতি।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আর্জি জানাই সিবিআই। আপের অভিযোগ বিচারপতি স্বর্ণকান্ত কেজরিওয়াল-সহ কোনও পক্ষের বক্তব্য না শুনেই একতরফা অভিযুক্তদের হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দেন। সেই মামলা আজ সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে ওঠার কথা। সেখানেই কেজরিওয়াল স্বয়ং আদালতে হাজির হয়ে নিজেই বিচারপতি স্বর্ণকান্তকে বলবেন আপনি এই মামলা থেকে সরে যান। আপনার বিচারের প্রতি আমাদের কোন আস্থা নেই।
বিচার মহলের খবর সাম্প্রতিক অতীতে ভারতে কোন আদালতে এমন নজির নেই। বিচারক বদলের দৃষ্টান্ত থাকলেও আবেদনকারী সরাসরি বিচারকের মুখের ওপর তাঁর প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করবেন এমন ঘটনা সচরাচর ঘটনা। যে কারণে কেজরিওয়ালের সিদ্ধান্তকে বিরল হিসেবেই দেখছে বিচারমহল। যদিও বিচারপতিকে বদল করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ংপ্রধান বিচারপতি। তিনি তিনি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই দেখার।