চিল্লাই কালান শুরু হতেই রাতভর তুষারপাতে সাদা চাদরে ঢেকে গেল কাশ্মীর। দীর্ঘ খরার পর বরফ ফেরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কাশ্মীরে তুষারপাত
শেষ আপডেট: 21 December 2025 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতের শুরুতেই বহু প্রতীক্ষার অবসান। চিলাই-কালান (Chilaikalan) শুরু হতেই মরশুমের প্রথম তুষারপাত দেখল কাশ্মীর (Kashmir)। দীর্ঘ প্রায় দু’মাসের টানা শুষ্ক আবহাওয়ার পরে এই তুষার আর বৃষ্টি হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ এনে দিল উপত্যকার বাসিন্দাদের। হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে জলসংকট, ধুলো-মাখা বাতাস আর পর্যটন-মন্দা-সব কিছুর মধ্যেই যেভাবে শনিবার রাতে বরফের চাদরে ঢাকল কাশ্মীর, তা মুখে হাসি ফোটাচ্ছে সেখানকার মানুষজনের।
প্রথম তুষারপাতের খবর এসেছে গুরেজ (Gurez Valley), ওয়ারওয়ান উপত্যকা (Warwan Valley) এবং দক্ষিণ ও উত্তর কাশ্মীরের উঁচু এলাকা থেকে। তুষারে ঢেকেছে সিন্থান টপ (Sinthan Top), রাজদান পাস (Razdan Pass), সাধনা টপ (Sadhna Top), জোজিলা (Zojila) ও সোনমার্গ (Sonmarg)। শুধু কাশ্মীর নয়, ড্রাস (Drass) ও কার্গিল (Kargil) জেলার একাংশেও নতুন তুষারপাত রেকর্ড হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়া ছিল এবার। প্রায় দু’মাস ধরে কোনও বৃষ্টি বা তুষারপাত না হওয়ায় নদী, ঝরনা ও প্রাকৃতিক ঝর্ণাগুলির জলস্তর ভয়াবহভাবে কমে গিয়েছিল। শুষ্ক ঠান্ডা আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল, বাড়ছিল জলাভাবের আশঙ্কা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই তুষারপাত অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মৌসম ভবন (India Meteorological Department) জানিয়েছে, রবিবার থেকে জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)-এর উঁচু এলাকাগুলিতে মাঝারি থেকে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দু’দিনে এই তুষার-বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
বৃষ্টি আর বরফে দীর্ঘদিনের শুষ্ক ঠান্ডা কিছুটা হলেও কাটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি হিমবাহ, ঝরনা ও পাহাড়ি জলধারাগুলিও নতুন করে প্রাণ পাবে। এছাড়া কাশ্মীরে মূলত লোকজন এই সময় বরফ দেখতে যান, তাদের দেখা মিলছিল না। বরফ পড়তে শুরু করায় তাদের ভিড়ও কিছুটা বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, শনিবার শীতকালীন প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ (Omar Abdullah), একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য ভারী তুষারপাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে একবার আবহাওয়া পুরোপুরি বদলালে।
ওমর বলেন, 'তুষারপাত কিছুটা ভোগান্তি আনলেও দীর্ঘদিন ধরে উপত্যকা এই বরফের অপেক্ষাতেই ছিল। তুষার বাতাস পরিষ্কার করবে, দূষণ কমাবে এবং শীতকালীন পর্যটনের সূচনা করবে। প্রশাসনের কাজের মূল্যায়ন হবে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর—সময়মতো রাস্তা পরিষ্কার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পানীয় জলের জোগান।'
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন। ট্রান্সফরমারের তেল মজুত ঠিক আছে কি না, তা কড়া নজরে রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা হয়। দুর্গম এলাকায় চার চাকার অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্য জায়গায় চেন লাগানো অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রীনগর (Srinagar) শহরে জল জমার প্রবণ এলাকাগুলিতে আগাম পাম্প বসানোর কথা বলেন তিনি।