
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি
শেষ আপডেট: 16 September 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক (Srinagar Jammu national highway) বন্ধ হয়ে পড়ায় হাজার হাজার টন আপেল ট্রাকে থেকেই পচে যাচ্ছে (tonnes of apples rotting on Kashmir road)। গত ২০ দিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ট্রাকভর্তি পচা আপেল (Kashmir apples) ফেলে দেওয়ার ছবি ও ভিডিও। এতেই স্পষ্ট, সড়ক বন্ধের ফলে সাধারণ কৃষকদের ক্ষতি কতটা মারাত্মক আকার নিয়েছে (apple farmers protest)।
কাশ্মীরি কৃষকদের ভরসার স্থান এই আপেল চাষ
ভারতের মোট আপেল উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে কাশ্মীর থেকে। ফলে দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকায় শুধু সরবরাহ ব্যবস্থা নয়, কৃষকদের জীবিকাও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন কাশ্মীরের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সারা বছর কৃষকরা বাগানে পরিশ্রম করে থাকেন, ভাল ফসল তুলতে তার পিছনে শ্রম-অর্থ খরচ করেন। এ বছর আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে ফসল এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার ওপর এবার পরিবহণ বন্ধ হয়ে ফসল পৌঁছতে না পারায় সাধারণ কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে দ্বিগুণ।
গত দু’দিন ধরে কাশ্মীরের সমস্ত আড়ত বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় পচতে থাকা ফল দেখে আপেল চাষিরা বিক্ষোভে নেমেছেন।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা জাতীয় সড়ক ২০ দিন ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টিকে ‘ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির সঙ্গে কথা বলেছেন। গড়কড়ি আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কীভাবে ভেঙে পড়ল জাতীয় সড়ক?
গত মাসের ভারী বৃষ্টি ও মেঘভাঙা অবস্থায় শ্রীনগর-জম্মু সড়কের একাধিক জায়গায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। বিশেষত উদমপুরের কাছে প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। তার পরে বিশাল তুষারধস ওই এলাকার পরিস্থিতি করুণ করে তুলেছে।
চেনানি-উদমপুর ও নশ্রি-বানিহাল অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনো পুরো সড়ক চালু করা যায়নি। এর জেরে হাজার হাজার গাড়ি, বিশেষ করে আপেল বোঝাই ট্রাক আটকে রয়েছে।
হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে চার লেনের সর্বকালীন শ্রীনগর-জম্মু মহাসড়ক। এতে যাতায়াতের সময় অনেক কমেছে ঠিকই, কিন্তু সাম্প্রতিক ভারিবর্ষণ দেখিয়ে দিয়েছে, ভূতাত্ত্বিকভাবে অস্থির এই অঞ্চলে সড়কটি কতটা ভঙ্গুর। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, হাইওয়ের সম্প্রসারণ ও নির্মাণ যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কৌশল ছাড়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সরবরাহেও প্রভাব
এই জাতীয় সড়কই কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর প্রধান সরবরাহ লাইন। প্রতিদিন এই পথে সেনার বিশাল কনভয় যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এবার সেনা রেলপথে শীতকালীন সরবরাহ পাঠিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ট্রেনে শীতের সামগ্রী পৌঁছেছে সেনাদের জন্য। ফেরার পথে ট্রেন কিছু আপেল নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ ফল আটকে থাকায় এই উদ্যোগ কৃষকদের খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারেনি।
চাষিদের ক্ষোভ ও দাবি
কাশ্মীর জুড়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন আপেল চাষিরা। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও সংকট আঁচ করতে ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তাঁরা। একাধিক স্থানে মণ্ডি বা আড়ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওমর আবদুল্লা প্রতিবাদী কৃষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেছেন, “এই সড়ক কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায়। যদি তারা এটি সামলাতে না পারে, তবে আমাদের হাতে তুলে দিক। আমরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কিছুই হয়নি।”