অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অঞ্জনাবাইয়ের উপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। তাঁকে জোর করে দেহব্যবসায় যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

শেষ আপডেট: 9 February 2026 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বশুরবাড়ির লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে আত্মঘাতী হলেন ২২ বছরের এক তরুণী (Domestic Violence suicide)। শুধু তাই নয়, এই অত্যাচারের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ। জানা গিয়েছে, শ্বশুরবাড়ির তরফে তাঁকে জোর করে দেহব্যবসায় নামতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল (woman forced into prostitution)। সেই অসহনীয় যন্ত্রণা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ওই তরুণী (in-laws harassment case)।
ঘটনাটি ঘটেছে, কর্নাটকের বিদর জেলার বাসবকল্যাণে।
মৃত তরুণীর নাম অঞ্জনাবাই শেখর পাটিল। তিনি কর্নাটকের বিদর জেলার ভলকি এলাকার বাসিন্দা। ২০২২-এ বিয়ের পর তিনি একই জেলার বাসবকল্যাণ এলাকার ওম কলোনিতে শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন। সেখানেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অঞ্জনাবাইয়ের দেহ (Karnataka woman suicide)।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা গিয়েছে, অঞ্জনাবাইয়ের স্বামী শেখর পাটিল বাসবকল্যাণেরই বাসিন্দা। দম্পতির একটি ১১ মাসের শিশুসন্তান রয়েছে।
মৃত তরুণীর বাবা বিজয়কুমার-এর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অঞ্জনাবাইয়ের উপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে জোর করে দেহব্যবসায় যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এই লাগাতার অত্যাচারের জেরে তিনি গভীর মানসিক ট্রমায় ভুগছিলেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, বিজয়কুমার আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করায় তাঁর মেয়েকে মারধর করা হত। এই ঘটনার জেরে ক্রমশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অঞ্জনাবাই।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় মোট তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মৃত তরুণীর স্বামী শেখর পাটিল। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির আরও দুই সদস্যের নাম এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা, গার্হস্থ্য হিংসা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।