অনার কিলিং দমনে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে আইন করতে চলেছে কর্নাটক।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 16 January 2026 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনার কিলিং (honour killing) বা পরিবারের সম্মান রক্ষায় হত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে দেশে। সম্প্রতি কর্নাটকে এমন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় রাজ্য জুড়ে। এই ধরনের অপরাধ দমনে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার রাজ্য বিধানসভায় একটি বিল পেশ করতে চলেছে। অনার কিলিং আটকাতে এই প্রথম কোন রাজ্য আইন করার সিদ্ধান্ত নিল।
রাজ্যের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে এই সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। দ্য কর্নাটক ফ্রিডম অফ চয়েস ইন ম্যারেজ এন্ড প্রিভেনশন এন্ড পরিবেশন ইন দা নেম অফ অনার এন্ড ট্রাডিসান বিল ২০২৬ ( The Karnataka freedom of choice in marriage and prevention and prohibition of crime in the name of honour and tradition bill 2026)
শীর্ষক বিলটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিলে এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সাজা ১০ বছরের কারাবাস এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের চরিত্র বিচার করে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে বিলে।
উত্তর ভারতের মতো দক্ষিণে কর্নাটকে জাতপাতের বিভাজন এবং সংঘাত তুলনামূলকভাবে বেশি। মাসকয়েক আগে রাজ্যের হুব্বাল্লিতে মান্য পাতিল নামে এক তরুণীকে তার পরিবার হত্যা করে। সে তফশিলি জাতি সম্প্রদায়ভুক্ত এক ব্যক্তিকে বিয়ে করার অপরাধে পরিবারটাকে এই কঠোর সাজা দেয়। ওই ঘটনা নিয়ে গোটা রাজ্যে তোলপাড় চলে।
এর আগে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে ওনার কিলিং এর ঘটনা ঘটেছে। এমনকী রাজধানী দিল্লিও বাদ যায়নি। যদিও ক্রমবর্ধমান এই অপরাধ দমনে কোন রাজ্যই এখনো পর্যন্ত পৃথক আইন তৈরি করেনি।
কর্ণাটকের বিলটিতে বলা হয়েছে, সমস্ত নাগরিকের ব্যক্তিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তও এই অধিকারের আওতায় পড়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পরিবার এই ব্যাপারে কোনরকম হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
বিলে আরও বলা হয়েছে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি বিয়ের বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে যদি পারিবারিক বাধার সম্মুখীন হন এবং তাকে হুমকি বা অন্য কোনোভাবে ভয় দেখানো হয়ে থাকে তাহলে প্রশাসন তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। কর্নাটক সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আইন কি চালু হওয়ার পর সরকার একটি বিশেষ সেল খুলবে যেখানে এই ধরনের অপরাধের শিকার লোকজন সরকারের সাহায্য চেয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।