জখম অবস্থায় কোনওভাবে অধ্যাপক সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। এরপরেই কলেজ প্রশাসন তাঁকে সাসপেন্ড করে। কলেজটি কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরা-র মালিকানাধীন।

কর্নাটকে মেডিক্যাল কলেজে 'তাণ্ডব'
শেষ আপডেট: 27 March 2026 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজকার মতোই ক্লাসরুমে অধ্যাপকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন পড়ুয়ারা। তিনি এলেনও। কিন্তু এরপরই এমন এক কাণ্ড করে বসলেন যে সকলেই ক্ষুব্ধ হয়ে 'দক্ষযজ্ঞ' বাধিয়ে দিল। ক্লাসরুমে সকলের সামনেই হাঁটু মুড়ে ছাত্রীকে প্রকাশ্যে প্রেমপ্রস্তাব দেওয়ার (professor proposes to student) অভিযোগ ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে, তাতেই হল বিপত্তি। কর্নাটকের (Karnataka) এক মেডিক্যাল কলেজে সহকারী অধ্যাপকের এমন আচরণ মুহূর্তে আগুন ধরিয়ে দিল ছাত্রদের মধ্যে, আর তার পরই ক্যাম্পাসজুড়ে তোলপাড়।
ঘটনার সূচনা একটি ক্লাস চলাকালীন। কর্নাটকের শ্রী সিদ্ধার্থ মেডিক্যাল কলেজের (SSMC) পড়ুয়াদের তোলা ভিডিওতে (classroom proposal video) দেখা যায়, অভিযুক্ত অধ্যাপক আব্দুল ক্লাসে দাঁড়িয়েই বলেন, “তোমাদের ব্যাচের ভালবাসা আমি এড়াতে পারিনি। আজ আমি তোমাদের ব্যাচের এক মেধাবী মেয়েকে প্রপোজ করতে চাই… আর সবার জন্য চকলেটও রয়েছে।” এরপর তিনি সরাসরি সেই ছাত্রীকে উদ্দেশ করে হাঁটু মুড়ে বসে 'আই লাভ ইউ' (I Love You) বলেন। এই মন্তব্যে ক্লাসরুমে মুহূর্তেই অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
🚨 A 50-year-old professor, Mohammad Abdullah, proposed to a 19-year-old student during a live class in Bengaluru.
The very next day, the student along with others confronted him and he was beaten with slippers in protest.
The Siddhartha Medical College, Nelamangala is owned by… pic.twitter.com/dCOeCwO7F2— Dilpreet Grewal ☬ (@DpreetG) March 26, 2026
দ্রুত এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যাপককে সাসপেন্ড করে এবং ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।
প্রপোজ করার পর অধ্যাপক এগিয়ে যেতেই থেকে নামতেই ছাত্রী তাঁকে থামিয়ে বলেন, আগে প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলুন। তখন অধ্যাপক দাবি করেন, ছাত্রীই নাকি তাঁকে ভালবাসার কথা জানিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে নাকি সেই প্রমাণও রয়েছে। “তুমি কি বলোনি আই লাভ ইউ?”, এমন প্রশ্নও করেন তিনি। জবাবে ছাত্রী বলেন, “আমি কখন প্রপোজ করেছি?” অধ্যাপক বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ আছে।” প্রমাণ দেখাতে বললে তিনি বলেন, “আগামিকাল দেখাব।”
এরপর ছাত্রী আর কথোপকথন বাড়াতে না চাইলে অধ্যাপক বলেন, “ইটস ওকে,” তারপর ক্লাসের সকলকে চকলেট নিতে বলেন এবং ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান।
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি। ঘটনাটি জানাজানি হতেই অন্যান্য ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপককে থামিয়ে কার্যত জেরা শুরু করেন। বচসা দ্রুতই মারধরে পরিণত হয় (teacher assaulted on campus)। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেই ছাত্রী নিজে অধ্যাপককে জুতো দিয়ে মারছেন এবং অন্য কয়েক জন ছাত্রও তাঁকে মারধর করছেন। অভিযোগ, তাঁকে ক্যাম্পাস জুড়ে ধাওয়া করা হয় এবং গাড়ির কাছে পৌঁছনোর সময়ও হামলা চালানো হয়।
জখম অবস্থায় কোনওভাবে অধ্যাপক সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। এরপরেই কলেজ প্রশাসন তাঁকে সাসপেন্ড করে। কলেজটি কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরা-র মালিকানাধীন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে। পুলিশও মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।