নতুন ফর্ম ১৩০ শুধুমাত্র TRACES পোর্টালের মাধ্যমে তৈরি করা হবে এবং এটি ম্যানুয়ালি ইস্যু করা যাবে না। টিডিএস রিটার্ন জমা ও প্রসেস হওয়ার পরেই এই ফর্ম পাওয়া যাবে।

শেষ আপডেট: 25 March 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ভারতের আয়কর (Income Tax) ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। নতুন আয়কর বিধি, কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যাবে আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার পদ্ধতি, ফর্মের কাঠামো এবং পুরো প্রক্রিয়ার ধরন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল, বহুদিনের পরিচিত ফর্ম ১৬-এর (Form -16) পরিবর্তে চালু হচ্ছে নতুন ফর্ম ১৩০। এই ফর্মটি হবে বেতনভোগী কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বার্ষিক টিডিএস (TDS) শংসাপত্র, যেখানে আরও বিস্তারিতভাবে বেতন, কর-কাটার হিসাব, বিভিন্ন ছাড় এবং মোট করযোগ্য আয়ের তথ্য থাকবে।
নতুন ফর্ম ১৩০ শুধুমাত্র TRACES পোর্টালের মাধ্যমে তৈরি করা হবে এবং এটি ম্যানুয়ালি ইস্যু করা যাবে না। টিডিএস রিটার্ন জমা ও প্রসেস হওয়ার পরেই এই ফর্ম পাওয়া যাবে।
এছাড়াও, নতুন নিয়মে ITR ফর্মগুলিকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও কাঠামোবদ্ধ করা হচ্ছে। আয় ও ছাড়ের পাশাপাশি মূলধনী লাভকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—এই দুই ভাগে স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে। বিদেশি সম্পত্তি বা জটিল আর্থিক লেনদেন থাকলে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক হতে পারে।
কর জমা দেওয়ার পদ্ধতিতেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় প্রি-ফিলড ডেটা এবং স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভুল কম হয় এবং দ্রুত অসঙ্গতি ধরা যায়। ফলে সাধারণ বেতনভোগীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে, তবে বিনিয়োগকারী বা উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তথ্য দেওয়ার চাপ বাড়বে।
রিফান্ডের সময়সীমায় কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে সঠিক তথ্য দিলে দ্রুত রিফান্ড পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনও ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে বিলম্বের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন আয়কর কাঠামোর লক্ষ্য হল কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং তথ্যনির্ভর করে তোলা। তাই করদাতাদের জন্য সঠিক তথ্য প্রদান এবং হিসাব মিলিয়ে নেওয়া আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।