হায়দরাবাদের রেস্তরাঁ চেইনের বিরুদ্ধে ৭০ হাজার কোটির ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ। বিলিং সফটওয়্যার বদলে বিশাল বিক্রি গোপন করার এই জালিয়াতি ধরেছে আয়কর দফতর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 February 2026 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কয়েকটি রেস্তরাঁয় রুটিন হানা। আর সেখান থেকেই বেরিয়ে এল রেস্তরাঁ শিল্পজুড়ে চলা ভয়াবহ ট্যাক্স ফাঁকির কাহিনি। গত নভেম্বরে হায়দরাবাদের কিছু রেস্তরাঁয় তল্লাশির পর আয়কর দফতর (Income Tax Department) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক বিশাল কর-এড়ানো চক্রের হদিস পেয়েছে। হিসাব বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ৭০,০০০ কোটি টাকার বেশি বিক্রি গোপন করা হয়েছে। আর এই জালিয়াতির কেন্দ্রে রয়েছে একটি জনপ্রিয় প্যান–ইন্ডিয়া বিলিং সফটওয়্যার।
আয়কর আইনের ১৩৩এ ধারায় হওয়া তদন্তে প্রায় ৬০ টেরাবাইট ডেটা ঘেঁটেছে দফতর। ২০১৯–২০ থেকে ২০২৫–২৬ পর্যন্ত ছয় বছরের বিলিং রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক লক্ষেরও বেশি রেস্তরাঁ এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে—যা ভারতের রেস্তরাঁ মার্কেটের প্রায় ১০ শতাংশ।
২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার বিলিং বিশ্লেষণ
ডিজিটাল অডিটে উঠে এসেছে, এই সময়কালে মোট বিলিং হয়েছে প্রায় ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩,৩১৭ কোটি টাকা পাওয়া গেছে পোস্ট–বিলিং ডিলিশন, অর্থাৎ বিক্রির তথ্য সিস্টেমে ঢোকানোর পর তা ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট ছবি- সাংগঠনিকভাবে বিক্রি আড়াল করার চেষ্টা।
ফরেনসিক অডিট হয়েছে হায়দরাবাদের আয়কর ভবনে। সফটওয়্যার সংস্থার আমদাবাদ (Ahmedabad) অফিস থেকে ব্যাকএন্ড অ্যাক্সেস নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এআই ও জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ১.৭৭ লক্ষ রেস্তরাঁ আইডি-র ডেটা খতিয়ে দেখেছেন। জিএসটি নম্বর, প্যান—সব মিলিয়ে ম্যাপ করা হয়েছে ওপেন সোর্স ডেটার সঙ্গে।
কীভাবে হয়েছে এই জালিয়াতি?
তদন্তে যে তিনটি প্রধান পদ্ধতির কথা উঠে এসেছে—
• ক্যাশ ইনভয়েস মুছে দেওয়া—ডেবিট, ক্রেডিট, ইউপিআইসহ সব লেনদেন সিস্টেমে ঢোকানো হলেও, কেবল ক্যাশ ইনভয়েস বেছে বেছে মুছে দেওয়া হত।
• বাল্ক ডিলিশন—একঝটকায় কয়েক দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত বিলিং রেকর্ড মুছে ফেলা হত।
• ডেটা না মুছেও কম দেখানো—সিস্টেমে বিক্রি বেশি, কিন্তু আয়কর রিটার্নে দেখানো হয় অনেক কম।
কোন রাজ্যে কত?
রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে—
• কর্নাটক (Karnataka): প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ডিলিটেড বিলিং
• তেলঙ্গানা (Telangana): প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা
• তামিলনাডু (Tamil Nadu): প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা
আন্ধ্র ও তেলঙ্গানায় ৩,৭৩৪টি প্যান বিশ্লেষণ করে পাঁচ বছরে ৫,১৪১ কোটি টাকা বিক্রি গোপনের প্রমাণ মিলেছে। শুধুমাত্র ৪০টি রেস্তরাঁয় তদন্ত করে ধরা পড়েছে ৪০০ কোটির জালিয়াতি। কিছু ক্ষেত্রে মোট বিক্রির ২৭ শতাংশ পর্যন্ত লুকোনো হয়েছে।
হায়দরাবাদ থেকে অভিযান শুরু হলেও পরে তা বিস্তৃত হয়েছে বিশাখাপত্তনম-সহ (Visakhapatnam) একাধিক শহরে। এত বড়াকার দুর্নীতি সামনে আসার পর সিবিডিট (CBDT) জানিয়েছে, দেশের সর্বত্র তদন্ত চলবে। পাশাপাশি স্পষ্ট করা হয়েছে—এটি কেবল একটি বিলিং সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের পর্যালোচনার ফল। রেস্তরাঁ শিল্পে ব্যবহৃত অন্যান্য সফটওয়্যারও এবার নজরদারিতে।
দফতর জানিয়ে দিয়েছে—যে সব রেস্তরাঁ বিক্রি চাপা রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।