১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল ও ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারে সরকারি ভাবনা। এই নীতিমালা অনুযায়ী স্কুলের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের ফেসবুকসহ কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থাকবে না।

কর্নাটকে ফোন ব্যবহারে নয়া নিয়ম
শেষ আপডেট: 24 March 2026 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজেট ভাষণে আভাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Karnataka CM Siddaramaiah)। এবার কর্নাটক সরকারের (Karnataka Govt) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতর যৌথভাবে নীতিমালা ঘোষণা করে জানাল ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল ও ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারে সরকারি ভাবনা। এই নীতিমালা অনুযায়ী স্কুলের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের ফেসবুকসহ কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থাকবে না। মোবাইল ব্যবহারেও নানা ধরনের বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য।
কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার (Congress) শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া (Digital Media) ব্যবহারের জন্য খসড়া নীতি প্রকাশ করেছে। এতে প্রস্তাব করা হয়েছে যে প্রতিটি স্কুল একটি ডিজিটাল ব্যবহার নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর করবে এবং পাশাপাশি একটি ডিজিটাল ওয়েলনেস কমিটি গঠন করবে।
নীতিতে বলা হয়েছে, পড়াশুনোর বাইরে বিনোদনের জন্য মোবাইল ব্যবহারের সময় দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সরকারের কথায়, ১৬ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে ‘টেক কারফিউ’ চালু করতে। অর্থাৎ দিনের নির্ধারিত সময়ে এই বয়সি ছেলেমেয়েরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। আরও বলা হয়েছে, ঘুমতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বন্ধ করে দিতে হবে। বলাই বাহুল্য এই দায়িত্ব নিতে হবে বাবা-মা সহ পরিবারের বড়দের।
গত ৬ মার্চ কর্নাটক বিধানসভায় আগামী অর্থবর্ষের বাজেট পেশ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন আমি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা এখানে বলতে চাই। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছেন তিনি। টেবিল চাপড়ে সেই প্রস্তাবে সায় দেন শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের বিধায়কেরাই।
এই ব্যাপারে কর্নাটক সরকার যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে সেটি তৈরি করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস (নিমহ্যান্স), শিক্ষা দফতর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬০ জন পেশাদার, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতিনিধি, অভিভাবক এবং সাইবার ক্রাইম দফতরের আধিকারিকেরা। বলা হয়েছে এই নীতি বাস্তবায়নের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হবে
এই নীতির অধীনে, যা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করতে হবে তাহল, স্কুলগুলিকে সাইবার বুলিং বা ডিজিটাল অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রোটোকল তৈরি করতে হবে এবং ডিজিটাল ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিতে শিক্ষকদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে।
আরও সুপারিশ করা হয়েছে যে প্রযুক্তির স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের জন্য একটি জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য মিশন গঠন করা উচিত। এখন সরকারি বেসরকারি সব স্কুলেই পঠন-পাঠন এবং ক্লাস সংক্রান্ত নানা তথ্য পড়ুয়াদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিয়ে থাকেন শিক্ষকেরা। কর্নাটক সরকারের নীতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা বিলোপ করতে হবে। চালু করতে হবে পুরনো ডায়েরি ব্যবস্থা। অর্থাৎ পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে ক্লাস শিক্ষক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের যাবতীয় বক্তব্য ডায়েরিতে লিখে দিতে হবে। পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহার কমাতেই এই সুপারিশ বলে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল ওয়েলনেস কমিটিতে প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক, কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মনোনীত শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং সাইবার ক্রাইম পুলিশ অফিসারদের রাখতে বলা হয়েছে। স্কুল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মিডিয়া শিল্পের সঙ্গে যৌথভাবে নৈতিক কনটেন্ট তৈরি এবং ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য বয়স উপযোগী ফোন বা ডিভাইস তৈরি করা, তাদের বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করা এবং ফোনের জন্য একটি বিশেষ ‘চাইল্ড প্ল্যান’ তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে শুধু অডিও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে এবং সন্ধ্যা ৭'টার পর ডেটা ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ এই নীতি অনুযায়ী কর্নাটক সরকার ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিশেষ ধরনের মোবাইল সেট তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
বলা হয়েছে, স্কুলগুলিকে কাউন্সেলরের কাছে পাঠানো শিক্ষার্থীদের বিষয়ে একটি গোপন নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং সাইবার বুলিং বা অনলাইন ক্ষতির ঘটনা দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে যাতে তারা কোনও হুমকি বা সন্দেহজনক অনলাইন আচরণ বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্ক বা স্কুল কাউন্সেলরকে জানায়।
সরকার জানিয়েছে তারা কিছুদিনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তার জন্য একটি হেল্প লাইন চালু করবে। শিশুদের সহায়তার উদ্দেশ্যে টেলি মানস -১৪৪১৬ নম্বরে বয়স্করা যোগাযোগ করতে পারবেন।
নীতি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। বলা হয়েছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণ শনাক্ত করতে পারবেন। এই প্রশিক্ষণের জন্য স্কুলগুলি নিমহ্যান্সের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাতে পারে।
অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা মোবাইল কম ব্যবহার করেন। তাদের বলা হয়েছে, সন্তানদের আরও বেশি করে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা, অফলাইন খেলা, দলগত পাঠচক্র ইত্যাদি কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, তারা যেন নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে গল্প করেন। সময় দেন। বই পড়াতে উৎসাহ দেন।