Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালকনববর্ষে স্মৃতির পাতায় ফিরলেন সাবিত্রী, বললেন—“আগে এত উদযাপন ছিল না”

ইরানের নজরদারির ইঙ্গিত? অন্য পথে হরমুজ পেরলো ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার 'জাগ বসন্ত' ও 'পাইন গ্যাস'

ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এই দুটি জাহাজ প্রচলিত ছোট ও সরল পথ ছেড়ে কেশম-লারাক (Qeshm–Larak) চ্যানেল দিয়ে প্রণালী পার হয়েছে। সাধারণত জাহাজগুলি সরাসরি আরব সাগরের দিকে ছোট পথ ধরে যায়, কিন্তু এবার তারা দীর্ঘ ও ঘুরপথ বেছে নিয়েছে। বাকি পাঁচটি ট্যাঙ্কার এখনও প্রায় একই জায়গায় রয়েছে।

ইরানের নজরদারির ইঙ্গিত? অন্য পথে হরমুজ পেরলো ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার 'জাগ বসন্ত' ও 'পাইন গ্যাস'

'জাগ বসন্ত' এবং 'পাইন গ্যাস' অন্যগুলির থেকে আলাদা পথে যাত্রা শুরু করে

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 23 March 2026 16:45

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতেই 'অন্য পথ ধরে' প্রণালী পার করল ভারতের দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার 'পাইন গ্যাস' (Pine Gas) এবং 'জাগ বসন্ত' (Jag Vasant)। যা শুধু সামুদ্রিক রুটের (Jag Vasant Pine Gas Hormuz route) পরিবর্তন নয়, বরং ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরানের কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দিকেও (India LPG supply Gulf tension Iran Surveillance)।

সংঘাত শুরুর পর ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ছ’টি এলপিজি ট্যাঙ্কার এবং একটি এলএনজি বাহক হরমুজ প্রণালীর কাছে নোঙর করে ছিল। সোমবার সকালে তাদের মধ্যে দুটি, 'জাগ বসন্ত' এবং 'পাইন গ্যাস', অন্যগুলির থেকে আলাদা পথে যাত্রা শুরু করে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে।

ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন বলছে, ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, এই দুটি জাহাজ প্রচলিত ছোট ও সরল পথ ছেড়ে কেশম-লারাক (Qeshm–Larak) চ্যানেল দিয়ে প্রণালী পার হয়েছে। সাধারণত জাহাজগুলি সরাসরি আরব সাগরের দিকে ছোট পথ ধরে যায়, কিন্তু এবার তারা দীর্ঘ ও ঘুরপথ বেছে নিয়েছে। বাকি পাঁচটি ট্যাঙ্কার এখনও প্রায় একই জায়গায় রয়েছে।

যাত্রা শুরুর সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। আগে যেখানে জাহাজগুলির বার্তায় সাধারণ পরিচয় - “IND SHIP AND CREW” বা “ALL INDIA CREW” দেখা যাচ্ছিল, সেখানে হরমুজ পার হওয়ার সময় তারা নিজেদের পরিচয় আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। যেমন “PINE GAS INDIAN SHIP” বা “JGVASNTINDSHIPINDCRW”। এই পদক্ষেপ থেকেই মনে করা হচ্ছে, তারা সম্ভবত ইরানের কাছ থেকে আগাম অনুমতি পেয়েছিল এবং নিজেদের পরিচয় স্পষ্ট করে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেছে।

কূটনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে ভারত। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেই উদ্যোগের ফলেই কয়েক দিন আগে শিবালিক (Shivalik) এবং নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে প্রণালী পার করতে পেরেছিল এবং যথাসময়ে সেগুলি ভারতে এসে পৌঁছয়।

'জাগ বসন্ত' পরিচালনা করছে মুম্বইয়ের গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং কোম্পানি, যা ভাড়া নিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিপিসিএল (BPCL)। অন্যদিকে 'পাইন গ্যাস'-এর পরিচালনায় রয়েছে সেভেন আইল্যান্ডস শিপিং, যা ভাড়া নেয় আইওসি (IOC)।

ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রবিবার রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে এই দুই ট্যাঙ্কার ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে এবং তিন দিনের মধ্যে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান।

ক্ষমতার নিরিখে 'জাগ বসন্ত'-এর বহনক্ষমতা প্রায় ৫৪,৪৭৮ মেট্রিক টন, আর 'পাইন গ্যাস' বহন করতে পারে প্রায় ৫৮,৫৮৫ মেট্রিক টন। এখানে ‘ডেডওয়েট’ বলতে জাহাজে বহনযোগ্য মোট ওজন - পণ্য, জ্বালানি, জল, রসদ ও ক্রু - সবই বোঝানো হয়।

এই দুই ট্যাঙ্কার মিলিয়ে প্রায় সেই পরিমাণ এলপিজি বহন করছে, যা শিবালিক ও নন্দা দেবী আগে এনেছিল - প্রায় ৪৬,০০০ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ গ্যাস ভারতের প্রায় এক দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। যদিও বাণিজ্যিক এলপিজির উপর কিছু বিধিনিষেধ থাকায় সামগ্রিক চাহিদা কিছুটা কমেছে।

একটি বিশ্লেষণে আগে জানানো হয়েছিল, মাসিক চাহিদা মেটাতে ভারতের অন্তত ২৯টি এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রয়োজন, যেগুলির বহনক্ষমতা শিবালিক-এর সমতুল্য। এই দুই ট্যাঙ্কার নিরাপদে পৌঁছতে পারলে এবং আমেরিকা থেকে আসা এলপিজি-সহ মোট পাঁচটি চালান আপাতত নিশ্চিত হয়েছে ভারতের।

গত সপ্তাহে সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের জন্য কোনও ‘সর্বজনীন চুক্তি’ নেই। প্রতিটি জাহাজের চলাচল আলাদা করে বিবেচনা করা হয়। তবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যেসব দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে আলোচনা করতে চায়, তাদের জন্য ইরান ‘খোলা মনেই’ রয়েছে।

তবু ঝুঁকি কিন্তু কাটেনি। বিচ্ছিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী এখনও হুমকি হয়ে রয়েছে। এমনকি ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কোনও নিয়ন্ত্রণহীন অংশও জাহাজে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। খবর অনুযায়ী, এই কেশম-লারাক চ্যানেলটিকেই নির্দিষ্ট ট্রানজিট রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান।

সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকটি জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে বেরোতে পেরেছে, তাদের অধিকাংশই এই একই রুট ব্যবহার করেছে, কেশম ও-লারাক দ্বীপের মাঝের জলপথ ধরে দীর্ঘ ঘুরপথে হরমুজ পার হয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট, প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং নির্দিষ্ট ‘চেকপয়েন্ট’-এর মাধ্যমে তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রবিবার পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল ভারতের ২২টি জাহাজ, যেখানে ছিলেন ৬১১ জন নাবিক। এর মধ্যে অধিকাংশই তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার। এই জাহাজগুলিতে মজুত রয়েছে মোট ৩.২ লক্ষ টন এলপিজি, ২ লক্ষ টন এলএনজি এবং ১৬ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেল, যা ভারতের উদ্দেশ্যে আসার কথা।

'পাইন গ্যাস' ও 'জাগ বসন্ত' হরমুজ পার হয়ে গেলে উপসাগরে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২০-এ।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই ‘অস্বাভাবিক’ রুট কেবল নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত নয় - এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখন কূটনীতি, সংঘাত ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


```