পাঞ্জাবে গত কয়েক বছর ধরে কবাডির দুনিয়া ক্রমে অন্ধকার পথে ঢুকে পড়ছে। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন কবাডি খেলোয়াড় খুন হয়েছেন।

পাঞ্জাবে খুন কবাডি খেলোয়াড়!
শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঞ্জাবে ফের এক কবাডি খেলোয়াড় খুন (Punjab kabaddi player murder)! লুধিয়ানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হলেন জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় গুরবিন্দর সিংহ। আর এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গ্যাং-এর তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দিয়ে জানানো হয়েছে, 'যে কেউ আমাদের শত্রুদের পাশে দাঁড়াবে, পরের গুলিটা যাবে তার বুকে।' এই ঘটনার পর থেকেই জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে খেলোয়াড়দের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুরবিন্দর সিংকে (Gurwinder Singh killing) খুন করেছে করণ মাদপুর এবং তেজ চক নামে দুই ব্যক্তি। এই হত্যার পেছনে মূল পরিকল্পনা ছিল গ্যাংস্টার হরি বক্সার এবং আর্জু বিষ্ণোই-এর। খুনের পরেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয় হুমকি বার্তা (Bishnoi gang threat), 'যে কেউ আমাদের শত্রুদের পাশে দাঁড়াবে, তাকে সতর্ক করা হচ্ছে। না হলে পরের গুলিটা তার বুকে ঢুকবে।'
পাঞ্জাবে গত কয়েক বছর ধরে কবাডির দুনিয়া ক্রমে অন্ধকার পথে ঢুকে পড়ছে। ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন কবাডি খেলোয়াড় খুন হয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, এই খেলাকে ঘিরে এখন মাদকচক্র, টাকার লেনদেন আর গ্যাংস্টারদের প্রভাব ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে। একসময় গ্রামের খেলার মাঠে জনপ্রিয় এই খেলা এখন অনেকের কাছে অর্থ আর ক্ষমতা দেখানোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিদেশে, বিশেষ করে কানাডা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা পাঞ্জাবি প্রবাসীদের মধ্যে কবাডি দারুণ জনপ্রিয়। সেখান থেকে প্রচুর টাকা এই খেলায় আসে, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এর বড় অংশই আসে বেআইনি পথে। অনেক সময় সেই টাকাই মাদক ব্যবসা থেকেও আসে। ফলে কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে রাজনীতিবিদ ও গ্যাংস্টারদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, আর সেই সম্পর্কই পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রতিশোধমূলক খুনের কারণ হয়ে উঠছে।
গত সপ্তাহেই জাতীয় স্তরের কবাডি খেলোয়াড় তেজপাল সিংকে (২৬) পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। যদিও সেই ঘটনার সঙ্গে কোনও গ্যাং-এর যোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতাই তার কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই কবাডি খেলোয়াড়ের খুনে উদ্বেগ বাড়ছে। পাঞ্জাবের প্রশাসন এখন কবাডি টুর্নামেন্টগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। কবাডির মাঠে যেন ছায়া ফেলছে অপরাধ জগতের কালো প্রভাব।