১৯৯৯ সালের ৪ জুলাই। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কারগিল থেকে ধীরে ধীরে পিছু হটছে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে। বাজপেয়ী ফোনে শরিফকে বলেন, আপনি আপনার ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনসকে পাঠান।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 July 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯৯ সালের ৪ জুলাই। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কারগিল থেকে ধীরে ধীরে পিছু হটছে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে। বাজপেয়ী ফোনে শরিফকে বলেন, আপনি আপনার ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনসকে পাঠান। তিনি আমাদের ডিজিএমও-র সঙ্গে আলোচনা করুন। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাক সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কথা বলুন দুজনে। এরপরেই ১১ জুলাই আট্টারি সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল তৌকির জিয়া (অবসরপ্রাপ্ত) এসে কথা বলেন ভারতের ডিজিএমও ব্রিগেডিয়ার ব্রিজমোহন ভাণ্ডারীর (অবসরপ্রাপ্ত) সঙ্গে।
ভাণ্ডারী সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, সেদিন এক অপ্রত্যাশিত বৈঠক হয়েছিল। আজ, ২৬ জুলাই দেশ যখন কারগিল বিজয় দিবসের ২৬ বছর পালন করছে, তখন সেই দিনের কথা এখনও স্মরণে রেখেছেন ভাণ্ডারী। তিনি বলেন, জিয়া একাই এসেছিলেন কথা বলতে। যা সেনা প্রটোকলের মধ্যে পড়ে না। আমরা ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টায় রওনা দিই। অমৃতসরে পৌঁছাই সওয়ায় ৮টা নাগাদ। ওখান থেকে একটি চপারে করে আমি ও প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল নির্মল চন্দ্র আট্টারির উদ্দেশে রওনা দিই। পৌঁছে দেখি, পাকিস্তানের দিকে জিয়া একলাই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর মাথায় টুপি নেই, সিগারেট খাচ্ছিলেন।
ভাণ্ডারী বলেন, আমি এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলাম। ‘ইয়ে ক্যায়া হ্যায় তৌকির’, আপনি একলাই এসেছেন? উনি তা শুনে বলেন, ‘ক্যায়া করুঁ? মিঞা সাহাব নে (নওয়াজ শরিফ) জুতে খানে কে লিয়ে আকেলে ভেজ দিয়া।’ ভাণ্ডারী জানান, ভারতীয় প্রটোকল কখনই ডিজিএমওকে একলা কথা বলার অনুমতি দেয় না। তাই শেষে জিয়া পাকিস্তানি সীমান্ত বাহিনীকে ডেকে নেন। যাতে ন্যূনতম প্রথা রক্ষা হয়। পাক সীমান্ত বাহিনীর তিন অফিসার ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন। শান্তি আলোচনায় গিয়েও আমরা পাকিস্তানি দলকে ইচ্ছা করেই ১০ মিনিট অপেক্ষায় করিয়েছিলাম। যাতে কারগিলের ঘটনায় আমরা কতটা বিরক্ত ও রেগে রয়েছি তা বোঝানো যায়।
ভাণ্ডারী বলেন, আলোচনা প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলেছিল। আমরা বৈঠকে জানিয়ে দিই পাকিস্তানকে কী করতে হবে, কী করা চলবে না। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। জিয়া এবং তাঁর তিন সহযোগী শুধু নোট নিচ্ছিলেন, একটিও কথা বলেননি সারাক্ষণ ধরে, বলেন ভাণ্ডারী। যদিও পরে পাকিস্তান শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে। সমস্ত শর্ত মেনে নেওয়ার পরেও পাকিস্তান বিভিন্নভাবে আমাদের বাহিনীকে আক্রমণ করে যাচ্ছিল। ভাণ্ডারী বলেন, যে কারণে ১৫ জুলাই থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত তোপবর্ষণ চলতে থাকে দুপক্ষেই। একমাত্র ২৫ জুলাই পাকিস্তান পুরোপুরি গুটিয়ে যায়। যদি ওরা প্রথমেই শর্ত মেনে গোলাগুলি চালানো থামিয়ে দিত, তাহলে কারগিল যুদ্ধ ১৬-১৭ জুলাইতেই খতম হয়ে যেত, ভাণ্ডারী বলেন।