দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পর কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপোষণ করা হচ্ছে। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল পহলগামে জঙ্গিহানার পরেও।

জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
শেষ আপডেট: 6 December 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা শনিবার জোর দিয়ে বলেন যে, জঙ্গি হামলার পর গোটা সম্প্রদায়ের মুখে একই তুলিতে কালি লেপন করা যায় না। সেটা অন্যায়। দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পর কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপোষণ করা হচ্ছে। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল পহলগামে জঙ্গিহানার পরেও। কাশ্মীরিদের হেনস্তা করা হচ্ছে, বিরক্ত করা হচ্ছে, আতঙ্কিত করা চলছে। এদিন দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের আলোচনাসভা হিন্দুস্থান লিডারশিপ সামিট ২০২৫-এ ভাষণে একথা বলেন ওমর।
জম্মু-কাশ্মীরের দুবারের মুখ্যমন্ত্রী তথা ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আরও বলেন, সমস্ত কাশ্মীরি মুসলিম জঙ্গি নন। তাঁরা সকলেই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেন, এমনটাও নয়। কিন্তু বাস্তবে একেবারে হাতে গোনা কয়েকজন এমনটা করে।
ওমর ২০২৫ সালটাকে যে কোনও মাপকাঠিতে খুবই কঠিন সময় বলে ব্যাখ্যা করেন। জম্মু-কাশ্মীরের পক্ষে এই বছরটা খুবই সঙ্কটাপূর্ণ ছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পহলগামের বৈসারণে জঙ্গি হামলা ও দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যেগুলিকে কাশ্মীরি জঙ্গিপনার সঙ্গে যুক্ত করে ফেলেছে সাধারণ মানুষ।
ওমর বলেন, পহলগামে জঙ্গি হানার পর জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ আপনারা সকলেই দেখতে পেয়েছেন। দলে দলে লোক রাস্তায় বেরিয়ে এসে জঙ্গিপনার বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছিল। হামলার বিরুদ্ধে মোমবাতি মিছিল করা হয়েছিল। ওমরের ব্যাখ্যায়, এদের বেশিরভাগই ছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। যারা সৎভাবে রোজগার করে শান্তিতে দিন কাটাতে পছন্দ করে।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী অনুশোচনা করে বলেন, পহলগাম হামলা আমাদের অর্থনীতিকে পুরো বদলে দিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি খুবই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। আবদুল্লা ভারতের ভিতরেই কাশ্মীরকে ভিন্ন চোখে দেখার সমালোচনা করেন। হরিয়ানা সরকারের নাম না করে বলেন, দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল অন্য একটি রাজ্যও। কিন্তু, নাম প্রচার হল কাশ্মীরের। সরকার নির্দেশ দিয়ে দিল যে, বিদেশি নাগরিক ও কাশ্মীরিদের স্থানীয় থানায় নাম লেখাতে হবে। তিনি বলেন, নেতাদের সঙ্গে কথা বলার আগেই আমাদের যা ক্ষতি করার তা করে দেওয়া হল।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাক্ষাৎকারী জানতে চান কাশ্মীরে জন্ম নেওয়া সন্ত্রাসবাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাঁর কী মত। এ ব্যাপারে ওমর বলেন, সেটা চলে গিয়েছিল কবে? সংবিধানের পরিবর্তন, ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা কি সন্ত্রাসের নিকেশ করার পক্ষে যথেষ্ট নয়! নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার যে সরকারের নেই, তাকে নির্বাচিত সরকার বলা যায় কী?