দূর থেকে কিছু করতে পারবেন না স্ত্রী, তা জেনেও শুধু ভয়েস নোটে (voice note) খবরটুকু পৌঁছে দেওয়া যে, আর বোধ হয় দেখা হল, বাড়ি ফেরা হল না।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 1 November 2025 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যুর আগে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথোপকথনটুকুরও (last conversation wife) সময় পাননি। বাচ্চাদের খোঁজ নিতে পারেননি। দূর থেকে কিছু করতে পারবেন না স্ত্রী, তা জেনেও শুধু ভয়েস নোটে (voice note) খবরটুকু পৌঁছে দেওয়া যে, আর বোধ হয় দেখা হল, বাড়ি ফেরা হল না।
নিজ গ্রামের কোর্ঠা ভাষায় তিনি স্ত্রীকে ভয়েস নোট করেন, 'ভুল করে আমার গুলি লেগেছে, কেউ সাহায্য করো।” এই ছিল তাঁর শেষ কথা।
১৫ অক্টোবর স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াইয়ের মাঝে ভুলবশত গুলিবিদ্ধ হন বিজয়, মাটিতে লুটিয়ে পড়েন (Jharkhand worker killed in Saudi Arabia)। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে চিকিৎসকদের আর কিছু করার ছিল না।
ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার দুধাপনিয়া গ্রামের যুবক বিজয় কুমার মাহাতো। বছর সাতাশের তরুণটি কাজ করতে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা সামলাতে এক বছর ধরে তিনি কর্মরত ছিলেন হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে, জেদ্দার এক ট্রান্সমিশন লাইন প্রজেক্টে।
বিজয়ের শ্যালক রাম প্রসাদ মাহাতো জানিয়েছেন, “ও অফিসের কাছে হেঁটে যাচ্ছিল, তখনই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের গুলির লড়াই। ভুল করে একটি গুলি ওর গায়ে লাগে।”
২৪ অক্টোবর পরিবারের কাছে খবর পৌঁছয় যে, বিজয় আর নেই। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, আর আছে দু'জন ছোট ছেলে (বয়স পাঁচ ও তিন বছর) এবং বৃদ্ধ বাবা-মা।
ভারতীয় দূতাবাস নিশ্চিত করেছে, ঘটনাটি ঘটেছে জেদ্দা অঞ্চলের জুমুম এলাকায়, যা কনস্যুলেট জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (CGI), জেদ্দার অধিক্ষেত্রের অন্তর্গত। দূতাবাস এও জানিয়েছে, ঘটনাটি 'সন্দেহজনক মৃত্যু' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই বিজয়ের দেহ এখনও সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন অফিসের হেফাজতে, পুলিশের তদন্ত এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জারির অপেক্ষায়।
ঝাড়খণ্ড সরকারের শ্রম দফতরের স্টেট মাইগ্র্যান্ট কন্ট্রোল সেল–এর প্রধান শিখা লাখরা জানিয়েছেন, “বিজয়ের দেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি রাঁচির প্রোটেক্টর অফ এমিগ্র্যান্টস এবং রিয়াধের ভারতীয় দূতাবাসকে পাঠানো হয়েছে।”
তবে পরিবারের বক্তব্য, তারা কোম্পানির লিখিত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণ করবেন না।
দূরদেশে বিজয়ের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রান্তিক এক গ্রামে যে কটা জীবন কিছুটা সুখের মুখ দেখেছিল, তা শেষ হল এক মুহূর্তে। এখন অপেক্ষা কেবল ন্যায়ের এবং প্রিয়জনকে শেষবারের মতো ঘরে ফেরানোর।