বিহারে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা। জন সুরাজ পার্টির কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত সিং ও দুই সহযোগী। তদন্তে নামল নির্বাচন কমিশন।

গ্রেফতার জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত সিং
শেষ আপডেট: 2 November 2025 08:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের পাটনায় রাজনৈতিক হিংসা ফের রক্ত ঝরাল। বিধানসভা ভোটের মুখে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে গুলিতে খুন হন জন সুরাজ পার্টির এক কর্মী। নিহতের নাম দুলারচাঁদ যাদব। ঘটনাটি ঘটেছে পাটনার মোকামা বিধানসভার তাল এলাকায়। এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোকামার জেডিইউ প্রার্থী অনন্ত সিং-কে গ্রেফতার করেছে বিহার পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে নাটকীয় অভিযানে আটক করা হয় তাঁকে।
পাটনার পুলিশ সুপার কার্তিকেয় শর্মা নিশ্চিত করেছেন অনন্ত সিংয়ের গ্রেপ্তারির খবর। তাঁর বক্তব্য, “ঘটনাটি ঘটেছে প্রার্থী অনন্ত সিংয়ের উপস্থিতিতেই। প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সেই তথ্যই উঠে এসেছে। তাই তাঁকে এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার গভীর রাতে পাটনার কাছে বারহ এলাকায় অনন্ত সিংয়ের বাসভবনে বিশাল অভিযান চালায় প্রায় ১৫০ জন পুলিশকর্মীর দল। নেতৃত্বে ছিলেন এসএসপি শর্মা স্বয়ং। সেখানে থেকেই অনন্ত সিংকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী মণিকান্ত ঠাকুর এবং রঞ্জিত রামকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাটনায় আনা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনও রিপোর্ট তলব করেছে। কমিশনের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই দুলারচাঁদ যাদব খুন হওয়ার পর জেডিইউ-এর বিরুদ্ধে সরব হয় জন সুরাজ পার্টি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর সরাসরি জেডিইউ-কে দায়ী করে টুইট করেন। এরপরই দায়ের হয় এফআইআর।
জন সুরাজ পার্টির মোকামা প্রার্থী পীযূষ প্রিয়দর্শী অনন্ত সিংয়ের গ্রেপ্তারিকে ‘বিলম্বিত পদক্ষেপ’ বলেই মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, “পুলিশের পদক্ষেপ অবশ্যই সঠিক, কিন্তু অনেক দেরিতে এল। গতকালও অনন্ত সিং ৫০টি গাড়ির কনভয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের হওয়ার পরই গ্রেফতার করা উচিত ছিল। এখন দেখতে হবে, তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে হয়।”
আগামী ৬ নভেম্বর বিহারে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই পাটনার এই হত্যাকাণ্ডে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার মোকামায় জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী পীযূষ প্রিয়দর্শীর সমর্থনে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। একই সময়ে সেখানে প্রচার করছিল জেডিইউও। দুটি মিছিল মুখোমুখি হতেই শুরু হয় সংঘর্ষ। সেই সময়েই গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলারচাঁদ যাদব।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড এখন বিহার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধীরা বলছে, ভোটের আগে জেডিইউ-র পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে ‘সন্ত্রাসের রাজনীতি’। অন্যদিকে, শাসকদল জেডিইউ-এর তরফে এখন পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।