জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ১৫টি ত্রাণ শিবির ও আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষকে রাখা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 5 September 2025 09:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টি, হঠাৎ মেঘভাঙা (cloudburst), বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত জম্মু–কাশ্মীরের রামবন জেলা (Jammu-Kasmir Ramban) floods। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ২৮৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৯৫০ জন মানুষকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রামবনের জেলা শাসক এলিয়াস খান জানান, গত ২৯ অগস্ট রাজগড় তহসিলের দ্রুবলা গ্রামে হঠাৎ মেঘভাঙার পর বৃষ্টিতে (Cloudburst in Jammu and Kashmir) প্রবল বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। এতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে, এক মহিলা এখনও নিখোঁজ এবং একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোগত বড় ধাক্কা। মোট ১৮২টি সড়কের মধ্যে ৭৫টি প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৫৫টি মেরামত করা হয়। পরে টানা বৃষ্টিতে ফের ৮৪টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে ৩০টি ফের চালু করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ৯৮টি জল সরবরাহ প্রকল্পের মধ্যে ৯১টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পরে ৬০টি পুনরুদ্ধার করা হয়। তবে পরে আবার ৪৩টি প্রকল্প নষ্ট হয়, যার মধ্যে ২৪টি ফের চালু হয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ৫৪টি ফিডারের মধ্যে ৪৯টি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ৪৭টি নতুন করে তৈরি করা হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ফের ২১টি ফিডার অকেজো হয়ে পড়ে, যার মধ্যে ১৯টি (আংশিকভাবে) মেরামত হয়েছে। এছাড়াও ১,৭৮১টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের মধ্যে ১,৪৮৯টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরে ১,৪৬০টি পুনরুদ্ধার করা হয়। কিন্তু নতুন করে ফের ৯৮৪টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৬২টি মেরামত সম্ভব হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই ১৫টি ত্রাণ শিবির ও আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষকে রাখা হয়েছে। তাদের জন্য খাবার, বিছানা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রামবনের ক্ষয়ক্ষতির এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।