গত ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় গাইড নিহত হন। তার পর নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা রাজ্যে প্রায় ৫০টি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 September 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের (Jammu Kashmir Pahalgam) বৈসরণ ভ্যালিতে পাক সন্ত্রাসী হামলার পাঁচ মাস পর ফের খুলছে উপত্যকার আরও কিছু পর্যটনকেন্দ্র (Tourist Places)। শ্রীনগরে ইউনিফায়েড কম্যান্ডের বৈঠক শেষে জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর (LT Governor) মনোজ সিনহা (Manoj Sinha) ঘোষণা করেছেন, সোমবার থেকেই কাশ্মীরের ৭টি এবং জম্মুর ৫টি জায়গা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাম হামলায় (Pahalgam Attack) ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় গাইড নিহত হন। তার পর নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা রাজ্যে প্রায় ৫০টি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এবার যে স্থানগুলি খোলা হবে তার মধ্যে কাশ্মীর বিভাগে রয়েছে — আরু ভ্যালি, রাফটিং পয়েন্ট ইয়ান্নের, আক্কাড পার্ক, পদশাহী পার্ক, কামান পোস্ট-সহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র। জম্মু বিভাগে খুলছে দাগান টপ, রামবান, কাঠুয়ার ঢাগ্গর, রেয়াসির শিবগুহাসহ কয়েকটি স্থান।
এর আগে ১৭ জুন প্রশাসন প্রথম দফায় কাশ্মীর ও জম্মুর ১৬টি পর্যটনকেন্দ্র খোলে। তার মধ্যে ছিল পহেলগাম বাজারসংলগ্ন পার্ক, ভেরিনাগ, কোকেরনাগ, আচাবল গার্ডেন, শ্রীনগরের বাদামওয়ারি পার্ক, নিগীন লেকের ডাক পার্ক ও হাজরতবালের টকদীর পার্ক। জম্মু অঞ্চলে খোলা হয় সারথাল, দেবিপিণ্ডি, সিয়াদ বাবা, সুলা পার্ক, গুলদণ্ডা, জই ভ্যালি ও পঞ্চেরি।
প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধাপে ধাপে সব কেন্দ্র খোলা হবে। এর মধ্যেই অমরনাথ যাত্রা নির্বিঘ্নে শেষ হওয়া, বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনা এবং ক্রমবর্ধমান পর্যটক আগমনে ফের গতি পেয়েছে কাশ্মীরের পর্যটন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাশ্মীরে পর্যটক এসেছেন প্রায় ৩৫ লক্ষ। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৩১.৫৫ লক্ষ, আর ২০২২-এ ২৬.৭৩ লক্ষ। পর্যটনশিল্পকে চাঙা করতে প্রশাসন এই পদক্ষেপকে বড়ো স্বস্তি হিসেবে দেখছে।
পহেলগাম হামলার পর পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয় - সিঁদুর। যদিও পাকিস্তান হামলার দায় এখনও পর্যন্ত স্বীকার করেনি। তবে ভারতের অভিযানের পর দুই দেশ ৫ দিনের বড় সংঘাতে জড়ায়। তাতেও বিরাট ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের। একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটি সহ বহু জঙ্গিদের বাঙ্কার মাটিতে মিশিয়ে দেয় ভারত। পাল্টা তারাও উপত্যকায় ড্রোন হামলা করেছিল লাগাতার। কিন্তু বিশেষ লাভ করতে পারেনি।