ভারত সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এতকাল জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া জঙ্গিরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও সর্বশেষ অপারেশন সিঁদুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।

এবার আর তারা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নয়া ঘাঁটি পত্তনের সাহস দেখাচ্ছে না।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরে বিধ্বস্ত পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠী পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে ডেরা সরিয়ে যাচ্ছে। ভারত সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এতকাল জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া জঙ্গিরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক ও সর্বশেষ অপারেশন সিঁদুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই এবার তারা তাদের ঘাঁটি সুদূর আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ার দিকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে ভারতীয় এজেন্সিগুলির খবর। যাতে ভারতীয় বাহিনীকে হামলা চালাতে প্রায় পুরো পাকিস্তানের জমি পেরিয়ে যেতে হবে।
পহলগাম জঙ্গিহানার পর গত ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জয়েশের সদর দফতর বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, মুজফফরাবাদ সহ মোট ৯টি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের বিমানবাহিনী। তারপর থেকেই ছিন্নবিচ্ছিন হয়ে যাওয়া জয়েশ ও হিজবুলরা নয়া ঘাঁটির তল্লাশ করছিল। কিন্তু, এবার আর তারা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নয়া ঘাঁটি পত্তনের সাহস দেখাচ্ছে না। সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনগুলি ও তাদের পরিচালক আইএসআই মনে করেছে যে, ভারতের নাগালের কাছাকাছি থাকা উচিত হবে না। তাই বহু দূরে জঙ্গিদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা।
তাছাড়া, পাকিস্তানের যে প্রদেশে জঙ্গিদের ডেরা গড়ে দেওয়ার কাজ চলছে, সেই খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার লড়াই চলছে। সে কারণে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি ও মজিদ ব্রিগেডকে টাইট দিতেও জঙ্গিদের ব্যবহার করতে পারে আইএসআই। কারণ, বিদ্রোহীদের হামলার হাত থেকে পাক সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তারক্ষীদের শহিদ হওয়ার থেকে কয়েকটা জঙ্গি সংঘর্ষে মারা গেলে, পাকিস্তানের লাভ।
জয়েশ ও হিজবুলদের এই ঘাঁটি বদলানোর কথা পাকিস্তান সরকারের চোখের সামনে ও তাদের জ্ঞাতসারেই চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। জয়েশ কিছুদিনের মধ্যে পাকিস্তান জুড়ে বেশ কয়েকটি সভা-সমিতি চালিয়েছে। তাতে নিরাপত্তা দিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরাই। কয়েকদিন আগে জয়েশ কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরির যে ভাষণ ভাইরাল হয়েছে, সেখানে তার পাশেও পাক সেনা আধিকারিকদের দেখা গিয়েছে। এমনকী রাজনৈতিক-ধর্মীয় ছায়া সংগঠন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামও বেশ কিছু প্রকাশ্য সভা করেছে।
সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এশিয়া কাপ ক্রিকেটের দুবাইয়ে ভারত-পাক ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর জয়েশ একটি নিয়োগ অভিযান চালিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মনশেরা জেলার গঢ়ী হবিবুল্লা শহরে বিরাট করে জঙ্গি নিয়োগের আয়োজন করা হয়। যেখানে পাহারার ব্যবস্থায় ছিল এম ফোর রাইফেলধারী জয়েশের নিজস্ব সদস্যরা ও স্থানীয় পুলিশ। খাইবার পাখতুনখোয়ার জয়েশ নেতা ইলিয়াস কাশ্মীরি ওরফে আবু মহম্মদ সেই নিয়োগ কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।