চুরি করতে এসে শুধু হাত সাফাই নয়, বরং গৃহকর্তাকে মদ্যপানের টিপস দেওয়া কিংবা পুলিশকে নিয়ে মস্করা করা - রাজস্থানের জয়সলমীরের এই চোরের কীর্তি হার মানাবে নেটফ্লিক্সের কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও।

'বিহারী বাবু' ওরফে তেজারাম সুতা
শেষ আপডেট: 8 April 2026 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুরি করতে এসে শুধু হাত সাফাই নয়, বরং গৃহকর্তাকে মদ্যপানের টিপস দেওয়া কিংবা পুলিশকে নিয়ে মস্করা করা - রাজস্থানের জয়সলমীরের এই চোরের কীর্তি হার মানাবে নেটফ্লিক্সের কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও। চুরির পর বাড়ির দেওয়ালে লিপস্টিক দিয়ে 'সিগনেচার' রেখে আসাই ছিল তাঁর নেশা (sarcastic lipstick note on wall theft)।
গত দু'মাস ধরে রাজস্থান পুলিশের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া সেই বিচিত্র চোর 'বিহারী বাবু' ওরফে তেজারাম সুতার ঠিকানা অবশেষে শ্রীঘর। যোধপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ (Jaisalmer Lipstick Note Thief Arrested)।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩১ জানুয়ারি। জয়সলমীরের আইজিএনপি কলোনিতে সরকারি ইঞ্জিনিয়ার সোহন জাঙ্গিদের বাড়িতে চড়াও হয়েছিল এই চোর। কিন্তু কেবল ল্যাপটপ, টিভি আর পারফিউম নিয়েই সে শান্ত হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে ঢুকে রীতিমতো 'ফিস্টি' করেছিল সে। কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়ার পর গৃহকর্তার স্ত্রীর ড্রেসিং টেবিল থেকে লিপস্টিক বের করে দেওয়ালে লেখে এক অদ্ভুত চিরকুট।

লিপস্টিক-বার্তায় পুলিশকে চ্যালেঞ্জ
দেওয়ালে লেখা লিপস্টিক নোট দেখে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ! তেজারাম সেখানে লিখেছিল, "বাড়িতে যদি মদ রাখেন, তবে তার সঙ্গে আলু চিপসও মজুত রাখবেন।" শুধু তাই নয়, পুলিশকে বিদ্রুপ করে সে আরও লেখে, "থানায় গিয়ে রিপোর্ট লিখে শুধু সময় নষ্ট হবে, তার চেয়ে শান্তিতে থাকুন।" শেষে বড় বড় হরফে সই করে গিয়েছিল - 'বিহারী বাবু'। চুরির পর এমন রসিকতা রাজস্থান পুলিশের কাছে সম্মানের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পুলিশের নাভিশ্বাস তুলেছিল 'টেক-মুক্ত' চোর
তেজারামকে ধরা পুলিশের কাছে পাহাড় প্রমাণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কেন? কারণ এই চোর ছিল অতি ধূর্ত। সে আধুনিক স্মার্টফোন তো দূর, সাধারণ মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত না। ফলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং করার কোনও উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ইনফরমার নেটওয়ার্ক বা খবরের জাল বিছিয়ে ৭ এপ্রিল যোধপুরের বাবর মাগরা এলাকা থেকে ৩৯ বছর বয়সী এই দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করে পুলিশ।
১৮টি চুরিতে হাত পাকানো 'অভ্যাসগত' অপরাধী
পুলিশি জেরায় তেজারাম নিজের অপরাধ কবুল করেছে। কোতোয়ালি থানার অফিসার সুরাজারাম জানিয়েছেন, তেজারামের স্বভাবটা বেশ খ্যাপাটে। সে পেশাদার চোর হলেও ধরা পড়লে আদালতে দাঁড়িয়ে অবলীলায় নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়। কিন্তু সাজার মেয়াদ শেষ করে জেল থেকে বেরোলেই আবার পুরনো স্বভাব চাগাড় দেয়। এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ১৮টি চুরির মামলা রয়েছে। ল্যাপটপ উদ্ধার হলেও বাকি জিনিসপত্রের সন্ধানে তাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
জয়সলমীর পুলিশের কথায়, তেজারামের একটা বিশেষ ধরন আছে। সে বাড়িতে ঢুকে সময় নিয়ে চুরি করে, জমিয়ে খায়, গান শোনে বা চিরকুট লেখে এবং সব শেষে খুব শান্তিতে বেরিয়ে যায়। তবে এবারের লিপস্টিক নোটটাই তাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। আপাতত 'বিহারী বাবু'র নতুন ঠিকানা জেলখানা।