প্রশ্ন উঠছে, এক হাতে একজনে কেমন করে এত কড়া নিরাপত্তার ভিতর দিয়ে পালাতে পারে? তদন্তে নামছে স্বয়ং রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল।

এআই দিয়ে বানানো ছবি
শেষ আপডেট: 25 July 2025 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের কান্নুর সেন্ট্রাল জেল থেকে পালাল একচল্লিশ বছরের গবিন্দাচামি - ২০১১ সালের শোরনুর-প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে আজীবন সাজা কাটছিল সে। শুক্রবার সকালে তার পালানোর পরই গোটা রাজ্যে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। চলছে ব্যাপক তল্লাশি।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, “জেল থেকে কীভাবে পালাল সে বিষয়ে এখনও সমস্ত তথ্য পরিষ্কার নয়। তবে চরম সতর্কতা জারি করে তল্লাশি চলছে।”
এক হাতে জেলের দেওয়াল টপকে পালাল!
জেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, গবিন্দাচামি এক হাতে জেলের ৭.৫ মিটার উঁচু প্রাচীর টপকে পালিয়েছে। প্রাচীরের উপর রয়েছে বৈদ্যুতিক তারের বেষ্টনীও। Mathrubhumi-র রিপোর্ট অনুযায়ী, জেল ব্লক-১০-এর সেলে বন্দি ছিল গবিন্দাচামি। গোপনে একটি করাতজাতীয় অস্ত্র জোগাড় করে সে তার সেলের লোহার গ্রিল কেটে দেয় এবং ভোররাতে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬টার পরেও সে সেল থেকে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। প্রাথমিক অনুমান ছিল, সেলে ঢোকেনি সে। পরে নিশ্চিত হয়, এই ঘটনা পরিকল্পিত এবং দীর্ঘদিন ধরেই পলায়নের ছক কষছিল গবিন্দাচামি।
কে এই গবিন্দাচামি?
২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, ২৩ বছরের এক তরুণী কোচি থেকে শোরনুরগামী একটি লোকাল ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রেনের মধ্যেই তার উপর হামলা চালায় গবিন্দাচামি। অভিযোগ, চলন্ত ট্রেনে তাকে ধর্ষণ করার পর বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্ত। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তরণী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় তাঁর।

এই মামলায় কেরল হাইকোর্ট গবিন্দাচামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজা বাতিল করে। আদালত জানায়, খুন প্রমাণ করা না গেলেও ধর্ষণের অভিযোগে সে দোষী। তাই যাবজ্জীবন সাজা বহাল থাকে।
এত কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও এই ধরনের এক দোষীর পালিয়ে যাওয়া গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কেরল পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই একাধিক জেলার সীমান্তে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গবিন্দাচামির পরিচিতদের জেরা করা হচ্ছে। তার এক হাত না থাকাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘আইডেন্টিফিকেশন মার্ক’ হিসেবে ব্যবহার করছে পুলিশ।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে— কোথাও তাকে দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দিতে বলা হয়েছে।
গোটা রাজ্যে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। তবু প্রশ্ন উঠছে— এক হাতে একজনে কেমন করে এত কড়া নিরাপত্তার ভিতর দিয়ে পালাতে পারে? তদন্তে নামছে স্বয়ং রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল।