ধনকড়ের ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। আচমকা এই সিদ্ধান্তের পিছনে কি কাজ করছে অন্য কোনও হিসেব?

শেষ আপডেট: 23 July 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের আচমকা পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশের রাজনীতিতে চাপানউতোর চলছে। এদিকে, সরকারি সূত্র বলছে, তার আগে সোমবার রাতেই তিনি 'অনির্ধারিতভাবে' রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন।
সোমবার রাত ৯টা নাগাদ ধনকড় রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন। এরপর ঠিক আধঘণ্টার মধ্যেই, রাত ৯টা ২৫ মিনিটে, তাঁর পদত্যাগপত্রের কপি X (পূর্বতন টুইটার)-এ প্রকাশ করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে ধনকড় লেখেন, “স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে আমি ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে, সংবিধানের ৬৭(ক) ধারা অনুযায়ী, তৎক্ষণাৎ ইস্তফা দিচ্ছি।”
২০২২ সালের আগস্টে উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ধনকড়। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের অগস্টে। সেই হিসেব অনুযায়ী, মাঝপথেই এই হঠাৎ পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাও আবার সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ধনকড়ের ইস্তফা ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। তাঁর এই আচমকা ইস্তফার কারণ কি শুধুই 'স্বাস্থ্য'? নাকি এর পিছনে কাজ করছে অন্য কোনও হিসেব?
বিরোধীদের একাংশের মতে, "উনি যে স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন, সেটা আদৌ আসল কারণ নয়। আসল কারণ অনেক গভীরে লুকিয়ে।"
এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে বেশ কিছু ঘটনা। পদত্যাগের পরও সরকারের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তাও এসেছে পরদিন দুপুর ১২:১৩ নাগাদ, যা ইস্তফা ঘোষণার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির দফতর ঠিক ১:১১-এ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগ গৃহীত হয়েছে বলে জানায়।
এই সময় ব্যবধান রাজনৈতিক মহলে সন্দেহ বাড়িয়েছে। অনেকের মতে, সরকার ধনকড়ের এই পদক্ষেপে হয়তো খুশি ছিল না, তবে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
বিরোধীদের ইমপিচমেন্ট নোটিসেও ‘চাপে’ থাকতে পারেন ধনখড়, এমন কথাও সামনে আসছে। সূত্র বলছে, ধনকড় গত সপ্তাহেই কয়েকজন বিরোধী সাংসদের কাছে বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট নোটিস আনার অনুরোধ করেন, যদিও সরকার চেয়েছিল বিষয়টি প্রথমে লোকসভা থেকে শুরু হোক। এর প্রেক্ষিতে রবিবারই এক প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ ও আইনজীবী নোটিস তৈরি করেন। সোমবার রাজ্যসভায় ৬৩ জন বিরোধী সাংসদ তাতে সই করেন, কোনও এনডিএ সাংসদ সই করেননি। কারণ, সরকার জানতই না ধনকড় এমন কিছু করতে চলেছেন।
এর পরেই রাজ্যসভায় ধনখড় ঘোষণা করেন, “আজ আমি একটি নোটিস পেয়েছি। বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অপসারণ চেয়ে সাংবিধানিক ধারা অনুযায়ী একটি কমিটি গঠনের জন্য ৫০ জনেরও বেশি সাংসদ সই করেছেন।”
সরকারের একটি সতর্কভাবে পরিকল্পিত রণনীতি-কে কার্যত বানচাল করে দেয় এই নোটিস। আর তার পরই ধনখড়ের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এটা কি নিছক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, নাকি সরকারের সঙ্গে সংঘাতের ফল?
উচ্চপদস্থ কোনও ব্যক্তি যখন সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করেন, সাধারণত সরকারপক্ষ থেকে কিছু প্রশংসাসূচক বার্তা আসে। কিন্তু ধনকড়ের বিদায়পর্বে শাসকদলের তরফে সেই প্রচলিত সৌজন্যও আসেনি। বরং, যাঁরা একসময় তাঁকে ইমপিচ করার দাবি তুলেছিলেন, সেই বিরোধীরাই তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করছেন, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।