উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের পর ভারতীয় নির্বাচন কমিশন শুরু করল উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি। জেনে নিন বিস্তারিত।

জগদীপ ধনকড়
শেষ আপডেট: 23 July 2025 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় আচমকাই পদত্যাগ করার পরেই দ্রুত নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ২২ জুলাই ধনখড়ের পদত্যাগের সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৮(২) অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের উপর। সেই প্রক্রিয়াই এখন শুরু হল আনুষ্ঠানিকভাবে।
নির্বাচন কমিশন আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে তারা উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই নির্বাচন পরিচালিত হবে ১৯৫২ সালের ‘প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন’ এবং ১৯৭৪ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ভিত্তিতে।
সংবিধান অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতির পদে অস্থায়ীভাবে কাউকে নিযুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে উপরাষ্ট্রপতি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হওয়ায়, তাঁর অনুপস্থিতিতে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান অথবা অন্য কোনও সদস্য সংসদীয় কাজ সাময়িকভাবে পরিচালনা করতে পারেন। বর্তমানে ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন জেডিইউ সাংসদ হরিবংশ সিংহ।
এদিকে জগদীপ ধনকড় আকস্মিক পদত্যাগের পেছনে স্বাস্থ্য-কারণ দেখালেও, রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। কে হবেন তাঁর উত্তরসূরি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তুঙ্গে। উল্লেখ্য, উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে গেলে ৩৫ বছর বয়স, ভারতের নাগরিকত্ব এবং সরকারি লাভজনক পদে না থাকা বাধ্যতামূলক। সাধারণভাবে উপরাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছরের হলেও, ধনকড় মাত্র তিন বছরেই পদত্যাগ করেছেন। তবে যিনি পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তিনি পূর্ণ মেয়াদ অর্থাৎ ২০২৫-২০৩০ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যেসব প্রক্রিয়া চলছে, তার মধ্যে রয়েছে:
নির্বাচকমণ্ডলীর তালিকা প্রস্তুত: লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে ইলেকটোরাল কলেজ। এখানে বিধায়করা ভোট দিতে পারেন না, বরং কেবল সাংসদেরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এই মুহূর্তে উভয় কক্ষ মিলিয়ে সাংসদের সংখ্যা ৭৮০, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রার্থীর প্রয়োজন ৩৯১ জন সাংসদের সমর্থন।
রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ: রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী নির্বাচন সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ: আগের উপররাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরির কাজ চলছে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হলেই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।