বুধবার স্পেসএক্স (Space X)-এর ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেন শুভাংশু। তাঁর সঙ্গী ছিলেন মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসন (যুক্তরাষ্ট্র), এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য সাওশ উজনানস্কি (পোল্যান্ড) ও তিবর কাপু (হাঙ্গেরি)।

শুভাংশু শুক্লা। ছবিতে ডানদিক থেকে দ্বিতীয়
শেষ আপডেট: 26 June 2025 21:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পৌঁছে ভারতের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhangshu Shukla) নজির গড়েছেন। বৃহস্পতিবার মহাকাশ থেকেই জানালেন, "দেখতে সহজ মনে হচ্ছে, তবে মাথাটা একটু ভোঁ ভোঁ করছে। তবে সব ঠিক আছে।"
বুধবার স্পেসএক্স (Space X)-এর ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেন শুভাংশু। তাঁর সঙ্গী ছিলেন মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসন (যুক্তরাষ্ট্র), এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য সাওশ উজনানস্কি (পোল্যান্ড) ও তিবর কাপু (হাঙ্গেরি)। প্রায় ২৮ ঘণ্টার সফরের পর এক নিখুঁত ডকিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা পৌঁছন হারমনি মডিউলে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে।
এই ঐতিহাসিক সফরে শুভাংশু শুক্লা পেয়েছেন ‘স্পেস স্টেশন পিন’— যা তাঁকে বিশ্বের ৬৩৪ নম্বর নভোচারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে, এটি ভারতের জন্যও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার কারণ ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মার পর এতদিন পরে কোনও ভারতীয় মহাকাশচারীর সফলভাবে আইএসএস-এ প্রবেশ করেছেন। যা এক গর্বের মুহূর্ত।
মহাকাশে গিয়ে শুভাংশুর কণ্ঠে ধরা পড়ে আবেগ। ভারতীয়দের উদ্দেশে বলেন, "তোমাদের ভালবাসা আর আশীর্বাদে আমি এখানে পৌঁছেছি। আমি তিরঙ্গা নিয়েছি সঙ্গে, আর নিয়েছি তোমাদের প্রত্যেককেও। এটা শুধু আমার নয়— আমাদের সবার সাফল্য।"
তাঁর কথায়, “এটা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারিনি। শুনছি আমি নাকি অনেক ঘুমোচ্ছি! যেন একটা শিশুর মতো—জিরো গ্র্যাভিটির মধ্যে নিজের শরীরকে সামলাতে শিখছি। তবে প্রতি মুহূর্ত উপভোগ করছি।”
শুভাংশুর আরও বলেন, এটি ভারতের মহাকাশ যাত্রার প্রথম ধাপ। আগামী ১৪ দিন তাঁদের মিশনের অংশ হিসেবে ৬০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শিক্ষা সংক্রান্ত কাজ হবে। যার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার গবেষণা, ডিএনএ মেরামতি ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা। বেসরকারি সংস্থা অ্যাক্সিওম স্পেসের এটি চতুর্থ মিশন হলেও, গবেষণার দিক থেকে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় নভোচরের কথায়, “আমি এমন এক জায়গা থেকে পৃথিবীকে দেখছি, যেখান থেকে শুধু গুটিকয়েক মানুষই দেখতে পেরেছেন। এটা কতটা সৌভাগ্যের, কতটা দায়িত্বের, তা বলে বোঝানো যায় না।”
আইএসএস-এ পৌঁছানোর আগেই এক আবেগঘন বার্তায় ১.৪ বিলিয়ন ভারতবাসীকে মহাকাশ থেকে শুভাংশু জানিয়েছিলেন— “নমস্কার ফ্রম স্পেস!” তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছিল গর্ব আর বিনয়। বলছিলেন, "আমি সেই সব মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ, যাঁদের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। এটা শুধুমাত্র আমার সাফল্য নয়—এটা দেশের, গোটা জাতির সাফল্য।"