খবরের কাগজ ও সোশ্যাল মিডিয়া দুটিতেই মহিলা আইপিএসকে তাঁর প্রাক্তন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছে আদালত। কারণ, বৈবাহিক বা দাম্পত্য সম্পর্কের চিড় ধরায় শ্বশুর এবং স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ফৌজদারি মামলা করেছিলেন ওই আইপিএস অফিসার। যার জেরে দীর্ঘদিন স্বামী-শ্বশুরকে কারাবাস করতে হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 July 2025 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মহিলা আইপিএস অফিসারকে (IPS) নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খবরের কাগজ ও সোশ্যাল মিডিয়া দুটিতেই মহিলা আইপিএসকে তাঁর প্রাক্তন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছে আদালত। কারণ, বৈবাহিক বা দাম্পত্য সম্পর্কের চিড় ধরায় শ্বশুর এবং স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ফৌজদারি মামলা করেছিলেন ওই আইপিএস অফিসার। যার জেরে দীর্ঘদিন স্বামী-শ্বশুরকে কারাবাস করতে হয়েছে।
আদালত একইসঙ্গে মঙ্গলবার এই বিয়ে ভেঙে দিয়ে সমস্ত বকেয়া মামলা বাতিল করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই এবং বিচারপতি এজি মাসিহ-র বেঞ্চ বিবাহ বিচ্ছেদে অনুমোদন দিয়ে বাকি ফৌজদারি মামলাগুলি খারিজ করে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত ওই দম্পতির ৮ বছরের একমাত্র কন্যাকে মায়ের হাতে তুলে দিয়েছে। যদিও বাবা ও তাঁর পরিবারের অধিকার থাকবে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ও দেখা করার।
বেঞ্চ বলেছে, আইপিএস মহিলার স্বামী ১০৯ দিন এবং শ্বশুরমশাই ১০৩ দিন জেলবাস করেছেন। কারণ, ওই মহিলা তাঁদের বিরুদ্ধে ৪৯৮ এ ধারায় বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মিথ্যা মামলা করেছিলেন। আদালতের মতে, স্বামী ও শ্বশুর যে দুর্ভোগ সহ্য করেছেন, তার কোনওভাবে ক্ষতিপূরণই হয় না। সে কারণে একটি প্রখ্যাত জাতীয় স্তরের ইংরেজি ও হিন্দি খবরের কাগজে তাঁদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ওই অফিসারকে।
একইভাবে ওই ক্ষমা চাওয়া পোস্ট করতে হবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে। আদালতের নির্দেশের তিনদিনের মধ্যে ক্ষমা যেন ছাপা হয়, সে রায়ও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে যেন ওই মহিলা অফিসারের পদে অপব্যবহার না করা হয় এবং তাঁর স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে কোনও সরকারি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। স্বামীকেও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে অপব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়।