মিশনটি LVM3-M6 নামে পরিচিত। এটি রকেটটির অষ্টম উড়ান এবং তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন, যা প্রমাণ করছে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

ইসরো স্যাটেলাইট লঞ্চ
শেষ আপডেট: 24 December 2025 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3, যাকে ‘বাহুবলি’ নামেই বেশি চেনা হয়, বুধবার সকালে ইতিহাস গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল (LVM3 launch delay)। এই রকেটই বয়ে নিয়ে যাবে মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile-এর অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট BlueBird 6, যা পৃথিবীর যে কোনও সাধারণ স্মার্টফোনে সরাসরি মহাকাশ থেকে ব্রডব্যান্ড সিগন্যাল পাঠাতে সক্ষম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে এই উৎক্ষেপণের সময় ৯০ সেকেন্ড পিছিয়ে দেয় ISRO।
আগে উৎক্ষেপণের সময় ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট, পরিবর্তিত সময় দাঁড়ায় ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। ISRO জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ পথের কাছে থাকা মহাকাশের ভর্তি জঞ্জাল ও অন্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘কনজাংশন’ বা সংঘর্ষের ঝুঁকি দেখা দিয়েছিল। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েই সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, শ্রীহরিকোটার (Sriharikota launch) আকাশের উপরে এখন হাজার হাজার স্যাটেলাইটের ভিড়, ফলে সংঘর্ষের ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক বেশি।
BlueBird 6–ই ভারতের রকেট দ্বারা মহাকাশে পাঠানো সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। এর ওজন প্রায় ৬ হাজার ১০০ কেজি। ISRO-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, “ভারতের মাটি থেকে এর আগে এত ভারী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়নি।” প্রায় ৪৩.৫ মিটার উঁচু এবং ৬৪০ টন ওজনের LVM3 রকেটই এই কাজের জন্য উপযুক্ত। এই রকেট আগের সাতটি মিশনে ১০০ শতাংশ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক চন্দ্রযান-৩-র উৎক্ষেপণও।
এই মিশনটি LVM3-M6 নামে পরিচিত। এটি রকেটটির অষ্টম উড়ান এবং তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন, যা প্রমাণ করছে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile জানিয়েছে, তারা আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০টি স্যাটেলাইট পাঠাতে চায় (AST SpaceMobile), যা বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে ৫জি মানের ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
BlueBird 6 স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর বিশাল ২ হাজার ২০০ বর্গমিটার অ্যারে অ্যান্টেনা, যা লো আর্থ অরবিটে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। এটি আগের প্রজন্মের স্যাটেলাইটগুলোর তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডেটা ক্ষমতা রাখতে পারবে। Starlink বা OneWeb–এর মতো বিশেষ গ্রাউন্ড টার্মিনাল লাগবে না, সাধারণ স্মার্টফোনই সরাসরি সিগন্যাল পাবে।
তবে ভারত এখনও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার অনুমতি দেয়নি। তাই প্রযুক্তি সফল হলেও ভবিষ্যতে নীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই উৎক্ষেপণ শুধু ISRO-র জন্য নয়, গোটা বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট, এই স্বপ্ন বাস্তব হলে দূরবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটবে।