২০০৮ সালে চন্দ্রযান ১-এর অভিযানে চাঁদের রাসায়নিক, খনিজ সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে ভারত। এরপরের চন্দ্রযান ২ মিশন অসফল হলেও তার ক্যামেরা থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রচুর ছবি পাচ্ছে ইসরো। এই মিশনের পর ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে চন্দ্রযান ৩ মিশনে বিরাট সাফল্য পায় ভারত।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 29 August 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছরের শুরুর দিকেই ইসরো (ISRO) প্রধান ভি নারায়ণন (V Narayanan) জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চন্দ্রযান ৫ মিশনের (Chandrayaan 5) জন্য অনুমতি দিয়েছে। খুব সম্ভবত, জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাক্সা (JAXA)-র সঙ্গে যৌথ অভিযান হতে চলেছে এটি। শুক্রবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই (Narendra Modi) এই ঘোষণা করে দিয়েছেন।
জাপান (Japan) সফররত প্রধানমন্ত্রী এদিন জানান, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জ্যাকসা (JAXA) ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে আগামী চন্দ্রযান-৫ প্রকল্পে। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী (Japan PM) শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মোদী বলেন, “চন্দ্রযান-৫ অভিযানে ইসরো ও জ্যাকসার সহযোগিতা আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পৃথিবীর গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই যৌথ উদ্যোগ মানবজাতির মহাকাশ অভিযাত্রার এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠবে।”
ইসরোর লক্ষ্য ২০২৭ বা ২০২৮ সালে এই মিশন সফল করা। এই মিশনের সবথেকে বড় চমক থাকবে রোভারের ওজনে। চন্দ্রযান ৩-এর রোভার প্রজ্ঞান-এর ওজন ছিল ২৫ কেজি। তবে চন্দ্রযান ৫-এর রোভার ওজন হতে চলেছে ২৫০ কেজি! অঙ্কের হিসেবে আগের রোভারের থেকে এর ওজন হবে ১০ গুণ বেশি। ইতিমধ্যে চন্দ্রযান ৪-এর অনুমোদন মিলেছে। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, পরপর দুটি চন্দ্রযান মিশন নিয়ে তাঁরা খুবই উচ্ছ্বসিত। কেন্দ্রীয় অনুমোদন মেলায় তাঁদের দায়িত্ব আরও বেশি বেড়ে গেছে এবং তাঁরা মিশন সফল করতে ভীষণ তৎপর।
২০০৮ সালে চন্দ্রযান ১-এর অভিযানে চাঁদের রাসায়নিক, খনিজ সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে ভারত। এরপরের চন্দ্রযান ২ মিশন অসফল হলেও তার ক্যামেরা থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রচুর ছবি পাচ্ছে ইসরো। এই মিশনের পর ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে চন্দ্রযান ৩ মিশনে বিরাট সাফল্য পায় ভারত। বর্তমানে চন্দ্রযান-৪ মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশ। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হবে চাঁদের মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা। চন্দ্রযান-৪ সফল হলে, চাঁদের মাটির নমুনা সরাসরি বিশ্লেষণ করে চাঁদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পর্কে বহু অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা সম্ভব হবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
ইতিমধ্যে আগামী কয়েক বছরে ভারতের মহাকাশ অভিযানের (Space Mission) জন্য নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়েছে ইসরো (ISRO)। ২০২৮ সালে শুরু হবে ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন (Bharatiya Antriksh Station)-এর প্রথম মডিউল নির্মাণ। ২০৩৫-এর মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হবে এই স্টেশন। সেই সঙ্গে আসছে চন্দ্রযান-৪ ও শুক্র গ্রহের কক্ষপথে অভিযান। আর ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদের মাটি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার স্বপ্নও পূরণ করতে চায় ভারত।