ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উপসাগরীয় আরব দুনিয়া যাঁকে আগ্রাসী শক্তির নেতা বলছে, তার মোকাবিলায় একটি ছয়দেশীয় জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
.jpeg.webp)
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি নেতৃত্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অখণ্ডতা রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ছবি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি।
শেষ আপডেট: 25 February 2026 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু উপসাগরীয় আরব দুনিয়া যাঁকে আগ্রাসী শক্তির নেতা বলছে, তার মোকাবিলায় একটি ছয়দেশীয় জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই জোটে ভারতের নামও রয়েছে। এতে পাকিস্তান অস্বস্তিতে পড়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইসলামাবাদ এই প্রস্তাবকে মুসলিম উম্মাহর (সমগ্র মুসলিম জাতির) বিরুদ্ধে জোট বলে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ একটি প্রস্তাব পাশ করে বলেছে, এই ছয়দেশীয় জোট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকি। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি নেতৃত্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অখণ্ডতা রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির এক নেতা, যাঁদের দল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের জোট সরকারের অংশ, ইজরায়েলের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে জোট গড়ার কথা বলা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য উসকানিমূলক এবং বিপজ্জনক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরের কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহু বলেন, এই নিরাপত্তা জোট উগ্র শিয়া ও সুন্নি শক্তির মোকাবিলা করবে। তাঁর দাবি, এই জোটে থাকবে ইজরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাস, পাশাপাশি আরও কিছু আরব, আফ্রিকা ও এশীয় দেশ। এই ঘোষণার সময় ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। অন্যদিকে পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক ধরনের সামরিক জোট গড়ার পথে এগোচ্ছে, যেখানে তুরস্কও যোগ দিতে আগ্রহী।
পাকিস্তানের উচ্চকক্ষে এই প্রস্তাবটি তোলেন পিপলস পার্টির নেত্রী পালওয়াশা মোহাম্মদ জায় খান। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সেখানে বলা হয়, মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে জোট গড়ার ইজরায়েলি ফন্দি, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশগুলির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট করার যে কোনও চেষ্টা তারা নিন্দা করে। এছাড়া সোমালিয়ার ভেঙে যাওয়া অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ইজরায়েলের স্বীকৃতিরও বিরোধিতা করা হয়েছে। পাকিস্তান তখন ইসলামি দেশগুলির সংগঠন এবং আরও কুড়িটি দেশের সঙ্গে মিলে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল। তাদের দাবি ছিল, এটি আন্তর্জাতিক আইনকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করা।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের উচ্চকক্ষের মতে, ইজরায়েল আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রসংঘের সনদ, সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক আদালতের পরামর্শমূলক মতামত মানছে না। প্রস্তাবে প্যালেস্তিনীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ১৯৬৭-র আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, টেকসই ও সংযুক্ত প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। পাশাপাশি দখল করা অঞ্চলগুলি থেকে ইজরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত এই ছয়দেশীয় জোট আসলে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো, যার উদ্দেশ্য তাঁর কথায় উগ্র শক্তির মোকাবিলা করা। তিনি বলেছেন, এই জোটে এমন দেশগুলো থাকবে যারা বাস্তব পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নিয়ে একমত। এতে ভারত, আরব দেশ, আফ্রিকার দেশ, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল যেমন গ্রিস ও সাইপ্রাস এবং এশিয়ার আরও কিছু দেশ থাকতে পারে। নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই জোট ইরান এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠন যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের বিরুদ্ধে ভারসাম্য তৈরি করবে। পাশাপাশি তিনি উদীয়মান উগ্র সুন্নি শক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন। এখনও পর্যন্ত এই দেশগুলোর মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি হয়নি।