এই বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করেছে। প্রধান বিচারপতি জানান, এ নিয়ে তিনি অসংখ্য ফোন আর মেসেজ পাচ্ছেন। এমনকী বিভিন্ন হাইকোর্টের বিচারপতিরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি জানান, এ নিয়ে তিনি অসংখ্য ফোন আর মেসেজ পাচ্ছেন।
শেষ আপডেট: 25 February 2026 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অষ্টম শ্রেণির একটি জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগে দুর্নীতি’ শব্দবন্ধ থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, এটা বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে “পরিকল্পিত এবং এর শিকড় খুব গভীর” ধরনের আঘাত। সুপ্রিম কোর্ট কোনওভাবেই বিচারবিভাগের মর্যাদা বা সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা বরদাস্ত করবে না। এই বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করেছে। প্রধান বিচারপতি জানান, এ নিয়ে তিনি অসংখ্য ফোন আর মেসেজ পাচ্ছেন। এমনকী বিভিন্ন হাইকোর্টের বিচারপতিরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
আদালতে বিষয়টি তোলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণির বইয়ে ‘বিচারবিভাগে দুর্নীতি’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বারের প্রবীণ সদস্যরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর কথায়, “আমরা এই প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ সদস্য হিসেবে খুবই বিচলিত যে স্কুলের বইয়ে এভাবে বিচারবিভাগকে তুলে ধরা হয়েছে।”
জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি আগে থেকেই বিষয়টি জানেন। “আমি এ নিয়ে অনেক ফোন আর মেসেজ পাচ্ছি, হাইকোর্টের বিচারপতিদের কাছ থেকেও,” তিনি জানান। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, “বিচারবিভাগের সততা নিয়ে কেউ কুৎসা রটাতে বা প্রশ্ন তুলতে পারবে না।”
আরেক প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, মনে হচ্ছে যেন একমাত্র বিচারবিভাগকেই নিশানা করা হয়েছে। রাজনীতিক, মন্ত্রী বা আমলাদের দুর্নীতির কথা বইয়ে নেই। তাঁর বক্তব্য, “এতে যেন বোঝানো হচ্ছে দুর্নীতি শুধু বিচারবিভাগেই আছে। অন্য কোথাও নেই। তিনি আরও বলেন, “এই বাছাই করে দেখানোই সমস্যা। অন্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি আছে, কিন্তু শুধু বিচারবিভাগকে আলাদা করে দেখানো হয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, বইয়ের কাঠামোয় সংবিধানের মূল চেতনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সততার প্রতিফলন নেই। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি সরকার ও বিচারবিভাগের মধ্যে নতুন এক সংঘাতের কারণ হতে পারে। তবে যে স্তরেই বিষয়টি পৌঁছাক না কেন, আদালত ব্যবস্থা নেবে। তাঁর কথায়, “এটা বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আঘাত বলেই মনে হচ্ছে। আমরা বিচারপ্রতিষ্ঠানকে নিশানা করতে দেব না।”