কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, যে বহু বছর ধরে নাম বদলের চেষ্টা করছে, তা এখনও অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সর্বশেষ প্রস্তাব ছিল রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করা। তার আগে ‘পশ্চিমবঙ্গ’, ‘বঙ্গ’ ইত্যাদি নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের চেষ্টা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, জ্যোতি বসুর আমলে।
শেষ আপডেট: 25 February 2026 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরলের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। নামবদলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজ্য সরকারের। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এই অনুমোদন দেওয়া হয়, বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে। এর আগে ২০২৩ সালের অগস্ট এবং ২০২৪-এর জুনে কেরল বিধানসভা সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করেছিল। ফলে কেরল শিগগিরই ‘কেরলম’ হতে চলেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, যে বহু বছর ধরে নাম বদলের চেষ্টা করছে, তা এখনও অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সর্বশেষ প্রস্তাব ছিল রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করা। তার আগে ‘পশ্চিমবঙ্গ’, ‘বঙ্গ’ ইত্যাদি নামও প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র কোনও প্রস্তাবেই অনুমোদন দেয়নি। ২০১৮-র প্রস্তাবও ঝুলেই আছে। কেরলের ক্ষেত্রে এখন কী হবে? রাষ্ট্রপতি প্রথমে একটি বিল কেরল বিধানসভায় পাঠাবেন। বিধানসভা মতামত জানালে কেন্দ্র সংসদে বিল আনবে, সংবিধানের প্রথম তফসিলে রাজ্যের নাম বদলের জন্য। লোকসভা ও রাজ্যসভায় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিল পাশ হলেই রাষ্ট্রপতির সইয়ের পর গেজেটে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নাম বদল কার্যকর হবে।
কেরলের নাম বদলের অনুমোদনের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের কোনও রাজ্যের বিরুদ্ধে কিছু নেই। কেরলের প্রস্তাব মানা হয়েছে কারণ বিজেপি আর সিপিএমের মধ্যে বোঝাপড়া আছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই কেরলের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন পেল। কেরলের নাম বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৩-এর অগস্টে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বিধানসভায় বলেন, রাজ্যের মালয়ালম নাম ‘কেরলম’। ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের সময় এই দাবি জোরালো ছিল। কিন্তু সংবিধানের প্রথম তফসিলে নাম রয়েছে ‘কেরালা’। তাই সংবিধানের তিন নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধন দরকার।
‘কেরলম’ নামটি ঔপনিবেশিক আমলেরও আগে থেকে প্রচলিত। প্রাচীন শিলালিপি ও তামিল সাহিত্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। অনেক গবেষক মনে করেন, ‘চের’ আর ‘আলাম’ শব্দ থেকে এই নামের উৎপত্তি, যার অর্থ সমুদ্র থেকে যুক্ত হওয়া ভূমি। আবার কেউ বলেন, ‘কেরম’ অর্থাৎ নারকেল শব্দ থেকেই নামের উৎস।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের চেষ্টা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে, জ্যোতি বসুর আমলে। পরে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে নামবদল করার প্রস্তাব দেন। তা খারিজ হয়। ২০১৬-য় আবার প্রস্তাব আসে— ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’, বাংলায় ‘বাংলা’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’। এটিও কেন্দ্র মানেনি। কারণ তিনটি আলাদা ভাষায় তিনটি আলাদা নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কেন্দ্র জানায়, একটিই অভিন্ন নাম হতে হবে। তারপর ২০১৮-য় বিধানসভা শুধু ‘বাংলা’ নামের পক্ষে প্রস্তাব পাশ করে। তবু কেন্দ্র তা মঞ্জুর করেনি। কেন্দ্রের বক্তব্য, রাজ্যের নাম বদল সংবিধান সংশোধনের বিষয়, সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
আরও একটি আপত্তি তুলেছিল বিদেশ মন্ত্রক। তাদের আশঙ্কা ছিল, ‘বাংলা’ নামটি ‘বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ২০১৬তেও একই আপত্তি উঠেছিল। এমনকি ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতেও রাজ্যসভার এক সাংসদ আবার নাম বদলের দাবি তোলেন। কেরলের প্রস্তাব মঞ্জুর হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বলেন, রাজনৈতিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি দাবি করেন, “ওরা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না। আমরা আমাদের রাজ্যের নাম বাংলা করেই ছাড়ব।”
দুই ক্ষেত্রেই সংবিধানের তিন নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদের হাতে। রাজ্য প্রস্তাব দিতে পারে, কিন্তু শেষ কথা বলে কেন্দ্র। আপাতত কেরল ‘কেরলম’ হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে। আর পশ্চিমবঙ্গের ‘বাংলা’ হওয়া এখনও অপেক্ষার তালিকায়—এবং বর্ণানুক্রমিক তালিকায়ও।