দেশে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশ। রাজধানী থেকে আইএস মডিউল ভেঙে ফেলে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে আইএস (Islamic State of Iraq and Syria বা ISIS)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার জানানো হয়েছে, এই অভিযানে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছেন তাঁরা। তাদের মধ্যে একজনের নাম আদনান।
সে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বাসিন্দা, অপরজনের বাড়ি দিল্লিতেই। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির সাদিক নগর ও ভোপালে যৌথ অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করে পুলিশ, পরে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ থাকতে পারে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক ভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্তরা আইএস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষছিল। তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একাধিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও নাশকতার সঙ্গে যুক্ত প্রমাণস্বরূপ সামগ্রী। পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির ফলে রাজধানীতে সম্ভাব্য এক সন্ত্রাস হানার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
সেপ্টেম্বরে ধরা পড়েছিল পাকিস্তান-ঘেঁষা আরেক মডিউল
এর আগেও চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুলিশ একটি পাকিস্তান-ঘেঁষা সন্ত্রাস মডিউল ভেঙে ফেলে। সেই সময় রাজধানী, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছিল, ধৃতদের নাম আশার দানিশ, আফতাব, সুফিয়ান, মুজাপা এবং কামরান কুরেশি ওরফে সমর খান। দানিশকে ধরা হয় ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে। আফতাব ও সুফিয়ান মুম্বইয়ের বাসিন্দা, আর মুজাপাকে আটক করা হয় তেলঙ্গানা থেকে।
তদন্তে উঠে এসেছিল, ধৃতরা ভারতে ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছিল এবং ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) ব্যবহার করে বড়সড় সন্ত্রাস হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, পাকিস্তান-ভিত্তিক এক হ্যান্ডলার সোশ্যাল মিডিয়ার এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত তাদের সঙ্গে। ওই হ্যান্ডলারদের কাছ থেকেই তারা পেত উগ্রপন্থী প্রচারসামগ্রী ও নির্দেশ—অস্ত্র, রাসায়নিক এবং বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ জোগাড় করতে।
দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, এই জঙ্গিগোষ্ঠীর উদ্দেশ্য শুধু বিস্ফোরক তৈরি নয় বরং দেশে এমন এক আত্মনির্ভর সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যেখানে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র প্রস্তুত করা যাবে এবং উগ্র মতাদর্শ আরও ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।